রাজনীতি ডেস্ক:
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, সবার ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে না। তবে কাউকে মাদকাসক্ত হওয়া যাবে না, অপরাধের সঙ্গে যুক্ত হওয়া যাবে না এবং খারাপ পথে যাওয়া যাবে না।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার দেবিদ্বার সরকারি রেয়াজ উদ্দিন পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের এ প্লাস ও বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘তুমি বিদেশে যেতে চাও, অন্য কোনো ক্যারিয়ার গড়তে চাও সেটা আলাদা বিষয়। কিন্তু পড়াশোনা দিয়ে যদি নিজের ক্যারিয়ার গড়তে চাও, তাহলে কলেজের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়টা ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারলে উচ্চশিক্ষার পথও তোমাদের জন্য উন্মুক্ত হবে।’
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘দুনিয়াতে সবার পড়াশোনা করতে হবে না। সবার ডাক্তার হতে হবে না, সবার ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে না। কিন্তু একজনকেও মাদকাসক্ত হওয়া যাবে না। একজনকেও দুর্নীতিগ্রস্ত মানুষ হওয়া যাবে না। একজনকেও খারাপ মানুষ হওয়া যাবে না।’
নিজের স্কুলজীবনের স্মৃতিচারণ করে এনসিপির এই নেতা বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর পুরোনো বিদ্যালয়ে এসে তিনি দেখছেন, যেসব শিক্ষক তাঁদের তারুণ্যের সময় শিক্ষার্থীদের জন্য শ্রম ও সময় দিয়েছেন, তাঁরা এখন বার্ধক্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন।
তিনি বলেন, ‘এই শিক্ষকরা যে আজ বৃদ্ধ হয়েছেন, তাঁদের চুলে যে পাক ধরেছে—তাঁদের তারুণ্যটা আমাদের দিয়ে তাঁরা বৃদ্ধ হয়েছেন। তাঁদের প্রতি আমাদের দায় আছে, ঋণ আছে। আমাদের মা-বাবার প্রতিও ঋণ আছে।’
হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, ‘তোমাদের প্রতি আমাদের দাবি একটাই—তুমি বিপথে যাবে না, খারাপ পথে যাবে না। তুমি বিদেশে যাও, ডাক্তার হও, ইঞ্জিনিয়ার হও কিংবা নিজের পছন্দের যেকোনো পেশায় যাও; কিন্তু মাদকের সঙ্গে এবং অপরাধের সঙ্গে যুক্ত হওয়া যাবে না।’
কিশোর গ্যাংয়ের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘গতকালও দেবিদ্বারের কয়েকজন কিশোরকে থানায় নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে রেয়াজ উদ্দিনের ছাত্র, অক্সফোর্ডের ছাত্র ও কুমিল্লা জেলা স্কুলের ছাত্রও রয়েছে বলে আমি জানতে পেরেছি। তারা কিশোর গ্যাংয়ের বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘কুমিল্লার পুলিশ সুপার যখন ফোন করে বলেন, দেবিদ্বারের একটি ছেলে এই কারণে গ্রেপ্তার হয়েছে—এটা কি ভালো খবর? তখন আমি লজ্জিত হই। কিন্তু যদি ফোন করে বলা হতো, আপনার এলাকার একটি ছেলে ভালো কাজ করছে, তখন সেটি আমাদের জন্য গর্বের বিষয় হতো।’
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘ভালো কাজের সঙ্গে তোমরা আমাকে পাবে। আর খারাপ কাজ করলে তুমি আমার ভাই হও আর যাই হও না কেন, অপরাধ করলে অন্য উপজেলার ছেলেরা যে শাস্তি পাবে, আমার উপজেলার এবং আমার স্কুলের ছেলেরা তার চেয়ে চার-পাঁচ গুণ বেশি শাস্তি পাবে।’
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের হাত তুলে মাদক, কিশোর গ্যাং ও বিপথগামী কর্মকাণ্ডে না জড়ানোর শপথ করান তিনি।
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. শরিফুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেবিদ্বার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দেওয়ান মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মো. কামরুজ্জামান মজুমদার, সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুস সবুর ও সাবেক শিফট ইনচার্জ জামাল মো. কবীরসহ অন্যরা।

