রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬ যোগাযোগ আমাদের পরিচয়
English
সর্বশেষ খুলনাকে পরিচ্ছন্ন, যানজট ও দখলমুক্ত নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই: নজরুল ইসলাম মঞ্জু ● খুলনার লবণচরায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে যুবক নিহত ● প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে স্থাপিত তোরণ-ব্যানার অপসারণের নির্দেশ খুলনা বিএনপির ● টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে এক ধাপ পিছিয়ে বাংলাদেশ ● যেকোনো হুমকির জবাবে তাৎক্ষণিক পাল্টা আঘাতের নির্দেশ খামেনির
রাজনীতি

নিজের নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নের সুযোগ কম পাওয়ায় ক্ষোভ মাহমুদা মিতুর

রাজনীতি ডেস্ক:

সংসদ সদস্য হিসেবে নিজের নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নে যতটা কাজ করার সুযোগ পাওয়ার কথা ছিল, ততটা পাননি বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু। তিনি বলেছেন, বিরোধী দলের সংরক্ষিত সংসদ সদস্য হওয়ায় সরকার তাকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বঞ্চিত করেছে। এর ফলে তার এলাকার মানুষও তাদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

রোববার (৪ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন মাহমুদা মিতু।

পোস্টে তিনি লিখেছেন, নির্বাচনের আগে রুমিন ফারহানা একটি ছোট দৈর্ঘ্যের রাস্তার ছবি প্রকাশ করেছিলেন। সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের মর্যাদা সমান হলেও তাদের কাজের পরিধি কতটা সীমিত, তা নিয়ে তখন তার মনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল। পাঁচ বছরে যদি একটি ইটের রাস্তা নির্মাণের মতো কাজই করার সুযোগ থাকে, তাহলে মানুষের জন্য বড় পরিসরে কীভাবে কাজ করবেন—এমন প্রশ্নও তার মনে এসেছিল বলে জানান তিনি।

মাহমুদা মিতু বলেন, সংসদ সদস্যদের প্রধান দায়িত্ব আইন প্রণয়ন ও রাষ্ট্র পরিচালনায় ভূমিকা রাখা। পাশাপাশি নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নের জন্য যে বরাদ্দ আসে, তার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জন্য সরাসরি কাজ করার সুযোগ রয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই তিনি সরাসরি নির্বাচনের স্বপ্ন দেখেছিলেন।

তিনি বলেন, মাঠে-ঘাটে মানুষের কাছে গিয়ে তাদের কথা শোনা এবং তাদের পাশে দাঁড়ানোই তার সবচেয়ে পছন্দের কাজ। তবে শেষ পর্যন্ত যা হয়েছে, সেটিকে তিনি আল্লাহর পরিকল্পনা হিসেবেই দেখছেন।

সরকারের দেওয়া বরাদ্দ প্রসঙ্গে মাহমুদা মিতু বলেন, তার এলাকায় খুব সামান্য কাবিখা ও কাবিটা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দুই উপজেলায় সেই বরাদ্দ ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দের পরিমাণ কম হলেও এর এক পয়সাও অনিয়ম বা এদিক-সেদিক হবে না বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

এলাকার সবচেয়ে খারাপ রাস্তাগুলো তিনি নিজে ঘুরে দেখেছেন জানিয়ে মাহমুদা মিতু বলেন, ভবিষ্যতে আরও বরাদ্দ পাওয়া গেলে ধাপে ধাপে এসব রাস্তার উন্নয়ন করা হবে।

দলীয় পরিচয়ের বাইরে গিয়ে প্রকৃত হকদারকে তার প্রাপ্য দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। কোনো বিএনপি কর্মী বা সমর্থক কোনো বরাদ্দের প্রকৃত হকদার হলে তাকেও বঞ্চিত করা হবে না বলে জানান তিনি।

মাহমুদা মিতু বলেন, রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো মানুষের হক নিশ্চিত করা। কোনো কিছু বণ্টনের ক্ষেত্রে নিজের পছন্দের মানুষকে বেশি দেওয়া, কারও প্রাপ্য আটকে রাখা কিংবা দুর্বল মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়ার মতো কাজ তিনি করতে চান না। এসব অন্যায়কে প্রশ্রয়ও দেবেন না। তবে ভুলত্রুটি হতে পারে স্বীকার করে নিজেকে সংশোধনের জন্য সব সময় প্রস্তুত থাকার কথাও জানান তিনি।

চিকিৎসা পেশা ছেড়ে জুলাইয়ের আন্দোলনে রক্তপাতের পর রাজনীতিতে এসেছেন উল্লেখ করে মাহমুদা মিতু বলেন, মানুষের জন্য কাজ করার স্বপ্ন নিয়েই তার রাজনীতিতে আসা। তিনি নিজে অন্যায় করবেন না এবং অন্য কেউ অন্যায় করলে সহজে তা মেনে নেবেন না।

নিজের এলাকার উন্নয়ন পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, তার এলাকা দেশের সবচেয়ে অনুন্নত ১০টি এলাকার মধ্যে একটি। সেখানকার রাস্তাঘাটের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। মানুষের দুর্ভোগ সরেজমিনে না দেখলে পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিশ্বাস করা কঠিন।

এলাকার উন্নয়নে সব সংসদ সদস্যকে দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে মাহমুদা মিতু বলেন, সবাই একসঙ্গে কাজ করতে পারলে আরও বেশি উন্নয়ন করা সম্ভব। তবে এ জন্য রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার বাইরে গিয়ে বৃহত্তর স্বার্থে কাজ করার মানসিকতা প্রয়োজন।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

একটি মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/modhumot/public_html/wp-includes/functions.php on line 5581