শিক্ষা ডেস্ক:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদের উদ্যোগে দীর্ঘদিন আগে চুরি হওয়া তিনটি স্মার্টফোন ফিরে পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থী।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুর ১টায় ডাকসুর সভাকক্ষে শিক্ষার্থীদের হাতে উদ্ধার হওয়া ফোনগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেন ডাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম। এ সময় ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
ডাকসু সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন আগে ওই তিন শিক্ষার্থীর ব্যবহৃত মুঠোফোন চুরি হয়ে যায়। পরে বিষয়টি ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদককে জানানো হলে তিনি ১৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) রাঙামাটি ইউনিটের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় করেন। পরবর্তী সময়ে ফোনগুলোর প্রকৃত মালিকানা যাচাই-বাছাই শেষে সেগুলো উদ্ধার করে শিক্ষার্থীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
হস্তান্তর অনুষ্ঠানে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত সমস্যা ও সামগ্রিক সংকট সমাধানে তাঁরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। নানা বাধা ও সমালোচনা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করছেন তাঁরা।
তিনি বলেন, ১৮ এপিবিএন রাঙামাটির সহযোগিতা এবং ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদকের সমন্বয়ে তিন শিক্ষার্থী তাঁদের হারানো ফোন ফিরে পেয়েছেন। ফোন ফিরে পেয়ে শিক্ষার্থীদের মুখে যে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস দেখা গেছে, তা তাঁকে আনন্দিত করেছে।
সাদিক কায়েম আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা পূরণ করাই ডাকসুর কাজ। তাঁদের প্রয়োজন অনুযায়ী সমস্যা সমাধানে যা করা দরকার, ডাকসু সেই চেষ্টা করে যাচ্ছে।
ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, অনেক শিক্ষার্থী টিউশনির টাকা জমিয়ে মুঠোফোন কেনেন। কিন্তু চুরি, ছিনতাই কিংবা অসাবধানতাবশত ফোন হারিয়ে গেলে তাঁরা ভোগান্তিতে পড়েন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী এ ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হন।
তিনি বলেন, সাধারণত ফোন হারানো বা চুরির ঘটনায় শিক্ষার্থীরা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। তবে অনেক ক্ষেত্রে এসব অভিযোগের কার্যকর অগ্রগতি হয় না। এ কারণে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ডাকসুর পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানে সরাসরি যোগাযোগ ও সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মুসাদ্দিক আলী বলেন, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা বিষয়টি জানানোর পর আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ শুরু করা হয়। ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফলে তিনটি ফোন উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
ফোন উদ্ধারে সহযোগিতার জন্য ১৮ এপিবিএন রাঙামাটির সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সংশ্লিষ্ট সদস্যদের ধন্যবাদ জানান তিনি। বিশেষ করে ইউনিটটির অধিনায়ক রেজাউল করিমের আন্তরিক প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করেন মুসাদ্দিক আলী।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন রিজওয়ান মানসুরী। এ সময় আহমেদ শাকিলসহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

