বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ যোগাযোগ আমাদের পরিচয়
English
সর্বশেষ খুলনা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ● নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এমপি হেলাল দিঘলিয়ার সারোয়ার খান কলেজ সরকারিকরণের উদ্যোগ ● বৃষ্টির শঙ্কায় বাংলাদেশ-চীন ম্যাচ, পরিত্যক্ত হলে সেমিফাইনালে বাংলাদেশ ● নতুন কুঁড়ির ৩০৬ প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদকে বিকেএসপিতে প্রশিক্ষণের উদ্যোগ সরকারের ● ভূমি অফিসে হাজিরা নিশ্চিত করতে চালু হচ্ছে ‘ভূমিদৃষ্টি’ অ্যাপ
সারাদেশ

কারও বক্তব্য চাইলেই থামানো যায় না: রুমিন ফারহানা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:

কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক নেতার বক্তব্য প্রচার প্রশাসনিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া বাস্তবে সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তাঁর মতে, বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের কারণে প্রত্যেক মানুষের হাতেই এক ধরনের গণমাধ্যম রয়েছে। ফলে কেউ চাইলে যেকোনো বক্তব্য সহজেই শুনতে পারেন।

বুধবার (৫ আগস্ট) জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে সরাইল উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে রুমিন ফারহানা বলেন, শুধু টেলিভিশন চ্যানেলই এখন গণমাধ্যমের একমাত্র মাধ্যম নয়। প্রযুক্তির এই সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মানুষের সরাসরি প্রবেশাধিকার রয়েছে। তাই কেউ বক্তব্য শুনতে চাইলে তা শোনার সুযোগ থাকবেই।

তিনি অতীতের একটি ঘটনার উদাহরণ টেনে বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে আদালতের আদেশের মাধ্যমে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচার নিষিদ্ধ ছিল। তাঁর প্রশ্ন, যদি সেই ব্যবস্থা গণতান্ত্রিক না হয়ে থাকে, তাহলে বর্তমানের একই ধরনের পদক্ষেপ কীভাবে গণতন্ত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে?

শেখ হাসিনার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্নের জবাবে রুমিন ফারহানা বলেন, তিনি বাংলাদেশের নাগরিক এবং দেশের রাজনীতিতে তাঁর ও তাঁর পরিবারের দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। পাশাপাশি তাঁর পরিবারের সদস্যরা হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় আওয়ামী লীগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এসব বিষয় এবং তাঁর বয়স বিবেচনায় নিয়ে ব্যক্তিগত মূল্যায়নে তিনি মনে করেন, শেখ হাসিনা শেষ পর্যন্ত দেশে ফিরে আসতে পারেন। অন্যথায় তাঁর দল এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।

ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষের বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির দুর্বলতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ছাত্রসংগঠনের ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণের অভাবও এতে স্পষ্ট হয়েছে। তাঁর ভাষায়, এসব ঘটনা দেশের রাজনীতি আবারও পুরোনো ধারা ও সংঘাতমুখী পরিবেশে ফিরে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন সরাইল উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির এনাম খাঁ, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন এবং সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়া। অনুষ্ঠানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা জানানো হয়।

অন্যদিকে, অনুষ্ঠানে রুমিন ফারহানাকে প্রধান অতিথি করার প্রতিবাদে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজন বর্জনের ঘোষণা দেয় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা। পরে তিনি আশুগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের আয়োজিত পৃথক অনুষ্ঠানেও অংশ নেন। সেখানে জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ও সমসাময়িক বিভিন্ন রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে বক্তব্য রাখেন।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

একটি মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/modhumot/public_html/wp-includes/functions.php on line 5493