খুলনা প্রতিনিধি:
দেশের সার্বিক পরিস্থিতি অত্যন্ত শোচনীয় হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি অভিযোগ করেছেন, দেশজুড়ে দুর্নীতি, দখলদারি, হল দখল, টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজি অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জনগণের মৌলিক অধিকার, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করতে ১১ দলীয় জোটের চলমান আন্দোলন ও লংমার্চ কর্মসূচি আরও জোরালো করা হবে।
মঙ্গলবার দিবাগত রাতে খুলনা মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং আগামী ৩১ অক্টোবরের ঢাকা-কুষ্টিয়া লংমার্চের প্রস্তুতি নিয়ে খুলনা মহানগরী ও জেলা জামায়াতের নেতাদের সঙ্গে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশজুড়ে তীব্র সার সংকট কৃষি উৎপাদনকে হুমকির মুখে ফেলেছে। সময়মতো সার ও জ্বালানি না পেয়ে কৃষকেরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাবে দেশে খাদ্য সংকট ও জনভোগান্তি আরও বাড়তে পারে।
তিনি আরও বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। বাজার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ ও কার্যকর বাজার মনিটরিংয়ে সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক দামে সাধারণ মানুষের মধ্যে চাপ বাড়ছে এবং দেশ অর্থনৈতিক সংকটের দিকে ধাবিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন জামায়াতের এই নেতা।
সভায় সভাপতিত্ব করেন খুলনা মহানগরী জামায়াতের আমির মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান। সঞ্চালনা করেন মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শাহ আলম।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা এমরান হুসাইন, মহানগরীর নায়েবে আমির অধ্যাপক নজিবুর রহমান, জেলা সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, মুন্সি মঈনুল ইসলাম, প্রিন্সিপাল শেখ জাহাঙ্গীর আলম, আজিজুল ইসলাম ফারাজী, মীম মিরাজ হোসাইন, ড. আবু রুবাবা, মাওলানা আ ন ম আব্দুল কুদ্দুস, মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক, মুকারম বিল্লাহ, মাওলানা শেখ মোহাম্মদ অলিউল্লাহ, অধ্যাপক ইকবাল হোসেন, মুহাম্মদ আব্দুল গফুর, মাওলানা শাহারুল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার মোল্লা আলমগীর, অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম লিটন, মিয়া মুজাহিদুল ইসলাম ও মোস্তফা আল মুজাহিদসহ মহানগরী ও জেলা জামায়াতের নেতারা।

