স্টাফ রিপোর্টার:
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম নিম্নমুখী থাকা সত্ত্বেও দেশের বাজারে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর খুলনা মহানগরী শাখা। সংগঠনটির নেতারা অবিলম্বে মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক ও সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নগরীর ডাকবাংলো সোনালী ব্যাংক চত্বরে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল-পূর্ব সমাবেশে এসব কথা বলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমীর মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘সিন্ডিকেট ও দুর্নীতিবাজদের রক্ষা করতেই বারবার জনগণের ওপর মূল্যবৃদ্ধির বোঝা চাপানো হচ্ছে।’ জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করা হলে ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
মহানগরী সহকারী সেক্রেটারি প্রিন্সিপাল শেখ জাহাঙ্গীর আলমের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন মহানগরী নায়েবে আমীর অধ্যাপক নজিবুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি এডভোকেট শাহ আলম ও আজিজুল ইসলাম ফারাজী, অফিস সেক্রেটারি মীম মিরাজ হোসাইন, মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য ড. আবু রুবাবা এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের খুলনা মহানগরী সভাপতি রাকিব হাসানসহ অন্যরা।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ফলে কৃষি, শিল্প, পরিবহনসহ অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে ব্যয় বেড়ে যাবে। বিশেষ করে সেচনির্ভর কৃষিতে উৎপাদন খরচ বাড়ায় কৃষকরা চাপে পড়বেন। একই সঙ্গে পরিবহন ব্যয় বাড়লে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মাহফুজুর রহমান বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়ছে কৃষকের সেচ পাম্প পরিচালনায়। সার ও বীজের বাড়তি দামের সঙ্গে জ্বালানি ব্যয় যুক্ত হওয়ায় ফসল উৎপাদনের খরচ বেড়ে যাচ্ছে। এতে দেশের খাদ্যনিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধির কারণে কলকারখানার উৎপাদন খরচ বাড়ছে। পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের ওপরও অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে, যার প্রভাব সাধারণ যাত্রীদের বহন করতে হচ্ছে। চাল, ডাল, তেল, শাকসবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে এর প্রভাব পড়ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সমাবেশ শেষে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় নেতারা জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান এবং দাবি বাস্তবায়ন না হলে আরও কর্মসূচি দেওয়ার ঘোষণা দেন।

