রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬ যোগাযোগ আমাদের পরিচয়
English
সর্বশেষ খুলনাকে পরিচ্ছন্ন, যানজট ও দখলমুক্ত নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই: নজরুল ইসলাম মঞ্জু ● খুলনার লবণচরায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে যুবক নিহত ● প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে স্থাপিত তোরণ-ব্যানার অপসারণের নির্দেশ খুলনা বিএনপির ● টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে এক ধাপ পিছিয়ে বাংলাদেশ ● যেকোনো হুমকির জবাবে তাৎক্ষণিক পাল্টা আঘাতের নির্দেশ খামেনির
খুলনা বিভাগ

খুলনায় গ্যাসের তীব্র সংকট

খুলনা প্রতিনিধি:

খুলনায় তীব্র গ্যাস সংকটে দুর্ভোগে পড়েছেন যানবাহনের চালক ও মালিকরা। বুধবার দিনভর নগরীর বিভিন্ন সিএনজি ও এলপিজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাস নিতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। কোথাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও গ্যাস না পেয়ে ফিরে যেতে হয়েছে চালকদের।

এতে অনেকের দিনের আয় বন্ধ হয়ে গেছে, আবার কেউ বাধ্য হয়েছেন বিকল্প জ্বালানিতে গাড়ি চালাতে।
চুকনগরের ভিআইপি অটো গ্যাস স্টেশনেও গ্যাসের জন্য যানবাহনের চাপ দেখা যায়। গ্যাস না পেয়ে অনেককে ফিরে যেতে হয়েছে। এদিকে নগরীর মুজগুন্নী, গল্লামারী ও খালাসির মোড়সহ বিভিন্ন এলাকার ফিলিং স্টেশনে মঙ্গলবার সকাল থেকেই যানবাহনের চাপ বাড়তে থাকে। মুজগুন্নীতে দীর্ঘ সারির কারণে ব্যস্ত সড়কের এক পাশেও যান চলাচল ব্যাহত হয়।
মুজগুন্নীর ডিএম অটো ফিলিং অ্যান্ড গ্যাস সাপ্লাই স্টেশনে দুপুর থেকে অপেক্ষায় থাকা সিএনজিচালক ইদ্রিস বলেন, দুপুর ১২টা থেকে তিনি লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। বিকেল পর্যন্তও গ্যাস পাননি। সাধারণত সকাল ৮টা থেকে রাত ৯টা-১০টা পর্যন্ত গাড়ি চালিয়ে আয় করেন তিনি। ইদ্রিস বলেন, ‘আজকের দিনের ইনকাম শেষ। গাড়ি চালাতে পারিনি।’
গ্যাস না পেয়ে গাড়ি ভ্যানে করে নিতে হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ভ্যানচালককে ২০০ টাকা দিতে হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা এই আয় করে সংসার চালাই। আজ গাড়ি বন্ধ থাকায় সংসার চালাব কীভাবে?’

আরেক সিএনজিচালক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, গ্যাসের দাম বাড়ানো হলে তা মেনে নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে রেখে হয়রানি করা উচিত নয়। দ্রুত সংকট সমাধানের দাবি জানান তিনি।
তবে সংকট শুধু সিএনজিতে সীমাবদ্ধ নয়, এলপিজির সরবরাহেও একই পরিস্থিতি দেখা গেছে। গাড়ির মালিক আরিফ আহমেদ বলেন, সোমবার খুলনা থেকে ডুমুরিয়া যাওয়ার পথে জিরো পয়েন্টসংলগ্ন খালাসির মোড়ের মারিয়া পেট্রোল পাম্পে এলপিজি নিতে গিয়ে গ্যাস পাননি। ফেরার পথে গাড়ির এলপিজি শেষ হয়ে গেলে বাধ্য হয়ে অকটেনে গাড়ি চালাতে হয়।
গাড়ির মালিক আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, মঙ্গলবার সকালে সোনাডাঙ্গা, গল্লামারী, খালাসির মোড় ও ময়ূরী আবাসিক এলাকার আশপাশের কয়েকটি এলপিজি স্টেশনে ঘুরেও গ্যাস পাননি। একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন চালক রিয়াজ শাওন।
মেট্রোপলিটন ফিলিং স্টেশনের মালিক অ্যাডভোকেট মাসুদ হোসেন রনি বলেন, কয়েক দিন ধরে এলপিজি সরবরাহে সংকট চলছে। বিভিন্ন কোম্পানি চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ করতে পারছে না। তাদের সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানও নিয়মিত সরবরাহ দিতে পারছে না।
তিনি বলেন, সাধারণত চার থেকে পাঁচ হাজার লিটার গ্যাসের জন্য পে-অর্ডার করা হয়। কিন্তু সরবরাহ ঘাটতির কারণে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। অন্য অনেক কোম্পানিও গ্যাস আনতে পারছে না। ফলে সংকট আরও তীব্র হয়েছে।

মাসুদ হোসেন রনি আরও বলেন, ঝড়ের কারণে জাহাজ চলাচলে সাময়িক বিঘ্নসহ বিভিন্ন কারণে সরবরাহব্যবস্থায় সমস্যা তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাদের পক্ষ থেকে এক-দুই দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

একটি মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/modhumot/public_html/wp-includes/functions.php on line 5581