খুলনা প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা এস এম কামাল হোসেনকে খুলনার ছাত্ররাজনীতির ‘জীবন্ত ইতিহাস’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক শফিকুল আলম তুহিন।
তিনি বলেন, ‘তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকারের দমন-পীড়ন, গুম-খুন ও নির্যাতনের রাজনীতির কাছে কখনো মাথা নত করেননি এস এম কামাল। খুলনার রাজপথে পুলিশের গুলির মুখেও তিনি বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন।’
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও খুলনা মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম কামাল হোসেনের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শুক্রবার খুলনার কে ডি ঘোষ রোডে বিএনপি কার্যালয়ে খুলনা মহানগর ছাত্রদল এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
শফিকুল আলম তুহিন বলেন, ‘এস এম কামাল শুধু একটি নাম নন, তিনি খুলনার ছাত্ররাজনীতির একটি জীবন্ত ইতিহাস। দলের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা এবং রাজপথের সাহস ছিল বিরল। কেন্দ্রঘোষিত প্রতিটি কর্মসূচি বাস্তবায়নে তিনি সম্মুখসারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁর রাজনৈতিক ভূমিকার কারণে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা তাঁকে স্নেহ ও ভালোবাসার চোখে দেখতেন।’
সাবেক সরকারের আমলের পুলিশি নির্যাতনের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘পিটিআই মোড় থেকে মডার্ন ফার্নিচারের দিকে যাওয়া একটি মিছিলের দৃশ্য আজও মনে আছে। পেছন থেকে পুলিশ যখন গুলি ছুড়ছিল, তখন এস এম কামাল পুলিশের বন্দুকের নলের সামনে বুক পেতে দাঁড়িয়েছিলেন। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি বহুবার নিজের জীবন ঝুঁকিতে ফেলেছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘কামালের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো শুধু মৃত্যুবার্ষিকীতে আনুষ্ঠানিকতা পালন নয়। চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব কিংবা টেন্ডারবাজির সঙ্গে তাঁর রাজনীতির কোনো সম্পর্ক ছিল না। তাঁকে অনুসরণ করতে হলে পরিচ্ছন্ন, নীতিবান ও আদর্শিক রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।’
দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে শফিকুল আলম তুহিন বলেন, ‘ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করে দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন।’ এসব বিষয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের সজাগ ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন শফিকুল আলম তুহিন। একই সঙ্গে প্রয়াত এস এম কামালের রুহের মাগফিরাত এবং তাঁর স্ত্রী, একমাত্র কন্যা ও পরিবারের সদস্যদের জন্য দোয়া করেন তিনি।
খুলনা মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. তাজিম বিশ্বাসের সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব হাবিবুর রহমান বিপ্লবের সঞ্চালনায় স্মরণসভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক চৌধুরী শফিকুল ইসলাম হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ পারভেজ বাবু ও চৌধুরী হাসানুর রশীদ মিরাজ এবং মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুল আজিজ সুমন।
স্মরণসভায় সাবেক ছাত্রদল নেতারাও এস এম কামালের সঙ্গে তাঁদের আন্দোলন-সংগ্রামের স্মৃতিচারণ করেন। তাঁরা তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, ত্যাগ এবং দলের প্রতি আনুগত্যের কথা তুলে ধরেন।
এ সময় খুলনা মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. তাজিম বিশ্বাসসহ সাবেক ও বর্তমান ছাত্রদল নেতারা এস এম কামালের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে তাঁর ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ নগরীর টুটপাড়ায় তাঁর পৈতৃক নিবাসের এলাকার একটি সড়কের নাম তাঁর নামে করার দাবি জানান।
স্মরণসভায় সাবেক ছাত্রদল নেতা খান রাকিব, মুজাহিদুল ইসলাম টনি, আমিন হোসেন মিঠু, মিজানুর রহমান বাবু, মমসেদুল ইসলাম সজীব, রায়হান হোসেন জুম্মা, শরীফ ওবায়দুর রহমান চয়ন, হেদায়েতুল্লাহ দিপু এবং মহানগর ছাত্রদলের সৈয়দ ইমরান, রিয়াজুল খান মুরাদ, শাকিল আহমেদ, হাসান মাহমুদ, সজল হোসেন, নাজিম উদ্দিন শামীম, এস এম ইউসুফ, আরিফুল ইসলাম, হিমি বিশ্বাস, হাসিবুর রহমান শোভন, মিজানুর রহমান মৃদুল, রাকিবুল ইসলাম সাজিদ, কামরুল ইসলাম, নাসিম রহমান নাহিদ, রিফাত ইসলাম, এম এম মুন্না, এস এম আলমগীর হোসেন, রাকিব হাসান, শিহাবুল আরেফিন লুপিন, ওহিদুজ্জামান খান, তরিকুল ইসলাম নকিব, এস এম ইলিয়াস, ইসমাইল হোসেন, মিজানুর রহমান মিজান, মারুফুর রহমান, শেখ রাজ, ইসমাইল ইসলাম, রকিবুল ইসলাম, ইসরাইল হোসেন জিসান, সাগর সরদার, মাহিন রহমান, ইমরান মল্লিক, রবিউল ইসলাম নয়ন, আল আমিন হোসেন, মনিরুজ্জামান আবিদ, রাকিব হোসেন, মহিউদ্দিন তালিম, তরিকুল ইসলাম নাহিদ, শাহ জালাল আকাশ, রুম্মান হোসেন, ইমতিয়াজ হোসেন সেজান, মিজানুর রহমান তামিম, শেখ সোয়েব, ফারহান জামান মাহিন, রাকিব হাসান, নাজমুল হোসেনসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভা শেষে এস এম কামালের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

