খুলনা প্রতিনিধি:
সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়কমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কাছে মানুষের প্রত্যাশা অনেক। তবে মানুষের সব ধরনের সমস্যা সমাধান করা এককভাবে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষে সম্ভব নয়। এসব বিষয়ে সরকারের অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও সংস্থারও দায়িত্ব রয়েছে।
তিনি বলেন, নারীদের স্বাবলম্বী করতে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম অঙ্গীকার হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি। এ কর্মসূচির প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এটি উপজেলা, ইউনিয়ন ও মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করা হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কার্যকর তদারকি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রোববার সচিবালয়ের দপ্তর থেকে অনলাইনে যুক্ত হয়ে খুলনার সিএসএস আভা সেন্টারে আয়োজিত ‘সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বাস্তবায়নাধীন কার্যক্রম অবহিতকরণ’ শীর্ষক বিভাগীয় সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, মানুষের চাহিদার যেমন শেষ নেই, তেমনি অবহেলিত ও পিছিয়ে পড়া মানুষের সেবা আরও কীভাবে বাড়ানো যায়, সে বিষয়েও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে। সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পাশাপাশি হঠাৎ ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও সচেতন ও উদ্যোগী হতে হবে।
তিনি বলেন, মানুষ যত আধুনিক ও উন্নত হচ্ছে, সমাজে তত নতুন ধরনের সমস্যা ও বৈষম্য তৈরি হচ্ছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সমাজকল্যাণের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। সাধারণ জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্যও কার্যকর সেবা নিশ্চিত করার সুযোগ রয়েছে।
জনবল বৃদ্ধি, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংযোজন এবং পদোন্নতির বিষয়ে কাজ চলছে জানিয়ে অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, এসব ক্ষেত্রে কিছু বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে। তবে আরও অনেক ক্ষেত্রে অগ্রগতি দৃশ্যমান করতে হবে।
সেমিনারটি সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উন্মুক্ত ও আন্তঃক্রিয়ামূলক আলোচনার সুযোগ তৈরি করবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের আলোচনা ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সেবার মান আরও উন্নত করা সম্ভব হবে।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ। বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালক অনিন্দিতা রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রতিষ্ঠান) মোহা. কামরুজ্জামান।
সেমিনারে খুলনা বিভাগের ১০ জেলার সমাজসেবা দপ্তরের উপপরিচালক, সহকারী পরিচালক, জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা অংশ নেন।

