রাজনীতি ডেস্ক:
আত্মপ্রকাশের দুই বছর পূর্তিকে সামনে রেখে কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। আগামী বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি দলটির প্রথম কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কাউন্সিলকে সামনে রেখে কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষ পর্যায়ে পরিবর্তন ও দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের পরিকল্পনা করছে দলটি।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) এনসিপির একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
দলীয় সূত্র জানায়, আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব পদ বহাল রেখে মুখপাত্র, উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক এবং মুখ্য সমন্বয়ক—এই চারটি পদ বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম ‘রাজনৈতিক পর্ষদ’-এর সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। পুনর্গঠনের পর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যসংখ্যা দাঁড়াবে ১৫১ জনে।
বর্তমানে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। দলের মুখপাত্রের দায়িত্বে রয়েছেন আসিফ মাহমুদ এবং মুখ্য সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
একাধিক দলীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পুনর্গঠিত কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পেতে পারেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও হাসনাত আব্দুল্লাহ। অন্যদিকে সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব হতে পারেন সারজিস আলম ও আসিফ মাহমুদ। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো পাওয়া যায়নি।
গত রোববার অনুষ্ঠিত এক সভায় কেন্দ্রীয় কমিটির পুনর্গঠন ও দায়িত্ব বণ্টনের কাজ চূড়ান্ত করার বিষয়ে আলোচনা হয়। ওই সভায় ১৩ অক্টোবরের মধ্যে পুনর্গঠিত কমিটি ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
সভায় এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ, আব্দুল্লাহ আল আমিন ও নুসরাত তাবাসসুম উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা সারজিস আলম, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, আরিফুল ইসলাম আদীব, সারোয়ার তুষার, আলী আহসান জুনায়েদ ও সালেহউদ্দিন সিফাত সভায় অংশ নেন।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নাগরিক পার্টির আত্মপ্রকাশ ঘটে। দলটির আহ্বায়ক হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম এবং সদস্যসচিব হিসেবে আখতার হোসেনের নাম ঘোষণা করে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটিতে দুই শতাধিক নেতাকর্মী স্থান পান।
দলটির প্রথম কাউন্সিলকে সামনে রেখে কেন্দ্রীয় কমিটির পুনর্গঠন, শীর্ষ পদে সম্ভাব্য পরিবর্তন এবং দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের এ উদ্যোগকে সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

