রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬ যোগাযোগ আমাদের পরিচয়
English
সর্বশেষ খুলনাকে পরিচ্ছন্ন, যানজট ও দখলমুক্ত নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই: নজরুল ইসলাম মঞ্জু ● খুলনার লবণচরায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে যুবক নিহত ● প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে স্থাপিত তোরণ-ব্যানার অপসারণের নির্দেশ খুলনা বিএনপির ● টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে এক ধাপ পিছিয়ে বাংলাদেশ ● যেকোনো হুমকির জবাবে তাৎক্ষণিক পাল্টা আঘাতের নির্দেশ খামেনির
আন্তর্জাতিক

গ্রিনল্যান্ডে তেল-গ্যাস ও খনিজ অনুসন্ধানে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

গ্রিনল্যান্ডের বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ ও কৌশলগত অবস্থানকে কেন্দ্র করে নতুন করে আগ্রহ দেখাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। দ্বীপটিতে তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদের ব্যাপক অনুসন্ধান শুরুর প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেছেন তিনি।

আরব নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, গ্রিনল্যান্ডে বিপুল পরিমাণ তেল, গ্যাস ও অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে। এসব সম্পদের ব্যাপক অনুসন্ধান শুরু হতে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি। তবে এ কার্যক্রমে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে অংশ নেবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

প্রাকৃতিক সম্পদের পাশাপাশি ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেও গ্রিনল্যান্ড গুরুত্বপূর্ণ। রাশিয়া ও উত্তর আমেরিকার মধ্যবর্তী আর্কটিক অঞ্চলে অবস্থিত দ্বীপটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা, সামরিক নজরদারি ও আকাশপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘গোল্ডেন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও গ্রিনল্যান্ডের অবস্থানকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

এ ছাড়া দ্বীপটিতে বিপুল পরিমাণ অনাবিষ্কৃত খনিজ সম্পদ রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আর্কটিক অঞ্চলের বরফ গলে নতুন নৌপথ উন্মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও গ্রিনল্যান্ডের অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব বাড়িয়ে তুলেছে।

এর আগে গত আগস্টে পূর্ব গ্রিনল্যান্ডের একটি প্রত্যন্ত এলাকায় মার্কিন একটি তেল কোম্পানির প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমের খবর প্রকাশিত হলে স্থানীয় বাসিন্দা ও কর্তৃপক্ষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়।

ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া একই পোস্টে ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর কোনো হামলা হলে দ্বীপটির ভৌগোলিক অবস্থান প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন ধরনের আকাশপথের হুমকি মোকাবিলায় সেখানে প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ট্রাম্পের ভাষ্য, গ্রিনল্যান্ডের অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রকে এমন কৌশলগত সুবিধা, আগাম সতর্কতা ও নজরদারির সুযোগ দিতে পারে, যা বিশ্বের অন্য অনেক স্থানে পাওয়া কঠিন।

এদিকে গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা বাড়ানোর সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত সেপ্টেম্বরে গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের নেতাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র একটি ১০ পৃষ্ঠার নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষর করে। ওই চুক্তির আওতায় গ্রিনল্যান্ডের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে দুটি নতুন সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে।

বর্তমানে উত্তর গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের পিটুফিক সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণাঞ্চলের নার্সারসুয়াক এবং পূর্বাঞ্চলের মেস্টারসভিগে আরও দুটি ঘাঁটি স্থাপন করা হতে পারে। এর ফলে দ্বীপটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ, আর্কটিক অঞ্চলে নতুন নৌপথের সম্ভাবনা এবং সামরিক নিরাপত্তা—এই তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করে গ্রিনল্যান্ডের গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। তবে সেখানে সম্পদ অনুসন্ধান ও সামরিক উপস্থিতি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা কী হবে, তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

একটি মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/modhumot/public_html/wp-includes/functions.php on line 5581