নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা
খুলনায় পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলমকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে ছিনতাইয়ের ঘটনায় মামলার প্রধান আসামি ও কথিত পরিকল্পনাকারী মিরাজ ওরফে ‘স্পিকার মিরাজ’ (৩৯) এবং তাঁর সহযোগী ইব্রাহীম গাজীকে (৪২) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৬-এর স্পেশাল কোম্পানি।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) খুলনা মহানগর পুলিশের (কেএমপি) সোনাডাঙ্গা থানার কলাবাগান ও খুলনা সদর থানার টুটপাড়া এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার মিরাজ খুলনা সদর থানার হাজী মহসিন রোড এলাকার ফারুক মিয়ার ছেলে। অপর আসামি ইব্রাহীম গাজী একই থানার সরকারপাড়া টুটপাড়া এলাকার মৃত আকবর আলীর ছেলে।
র্যাব-৬-এর বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ৯ অক্টোবর খুলনা জেলার সার্কেল অফিসে কর্মরত পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) শাহ আলম রিকশায় করে পুলিশ ক্লাবে যাওয়ার পথে মহানগরীর সদর থানাধীন কলেজিয়েট স্কুলের সামনে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন। এ সময় তিনজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি তাঁর পথরোধ করে টাকা ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নেয়। একপর্যায়ে তাঁকে ধারালো চাপাতি দিয়ে দুই হাতের কবজির ওপরের অংশে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
পরে খুলনা সদর থানা-পুলিশ ও সোনাডাঙ্গা থানার মোবাইল টিমের সহায়তায় আহত পুলিশ কর্মকর্তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাঁকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁর হাতের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকেরা তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় জেলা গোয়েন্দা শাখায় কর্মরত উপপরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. আওয়াল হোসেন বাদী হয়ে খুলনা সদর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
র্যাব-৬ জানায়, গ্রেপ্তার মিরাজের পিসিপিআর (পূর্ব অপরাধের তথ্য) বিশ্লেষণ করে কেএমপির আড়ংঘাটা ও সদর থানায় গুরুতর আঘাত, চুরি ও ডাকাতিসহ একাধিক মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। ইব্রাহীম গাজীর বিরুদ্ধেও খুলনা সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রয়েছে।
র্যাবের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মিরাজ ও ইব্রাহীম ওই ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য খুলনা মহানগর পুলিশের সদর থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

