খুলনা প্রতিনিধি:
খুলনায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকারি হাসপাতালগুলোতে দিনের যেকোনো সময় ডেঙ্গু পরীক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত। একই সঙ্গে শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপে নিরাপত্তা, নিরাপদ বিদ্যুৎ সংযোগ ও অগ্নিদুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
রোববার (১৯ অক্টোবর) জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত খুলনা জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির অক্টোবর মাসের সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
জেলা প্রশাসক বলেন, চলমান ওএমএস কার্যক্রমের তদারকি বাড়াতে হবে। দাকোপের পানখালী এসডিজি গ্রাম বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। শুষ্ক মৌসুমে অগ্নিদুর্ঘটনা প্রতিরোধ এবং ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে সবাইকে সচেতন হওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সভায় জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. বদরুজ্জামান জানান, মা ইলিশ সংরক্ষণে গত মাসে ২০টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং ৫০টি অভিযান চালানো হয়েছে। ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধকালীন খুলনার ৩ হাজার ৯৮৬টি জেলে পরিবারের মধ্যে ৩ হাজার ৯১৯টি পরিবার বরাদ্দের চাল পেয়েছে। এ সময় ৬ লাখ ৮০ হাজার মিটার জাল জব্দ করা হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. নজরুল ইসলাম জানান, খুলনা জেলায় ৩ লাখ ৫০ হাজার কৃষক কার্ড বিতরণের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এ পর্যন্ত ১২ শতাংশ কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। বটিয়াঘাটা উপজেলার আমীরপুর ইউনিয়নের ১ হাজার ৪৯২ জন কৃষক প্রত্যেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে প্রণোদনা পেয়েছেন। জেলায় সার ডিলার নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এ ছাড়া আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রার ৯৯ শতাংশ অর্জিত হয়েছে।
খুলনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম গাজী সভায় জানান, গত মাসে হাসপাতালটিতে ২ হাজার ৮৩৮ জনের ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হয়। তাঁদের মধ্যে ১ হাজার ৪৬ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। খুলনা সিটি করপোরেশন এলাকায় ডেঙ্গুর ১৮টি হটস্পট রয়েছে বলেও জানান তিনি।
সভায় সিভিল সার্জন ডা. মো. মনিরুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিতান কুমার মণ্ডল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোছা. রনী খাতুনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

