রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬ যোগাযোগ আমাদের পরিচয়
English
সর্বশেষ খুলনাকে পরিচ্ছন্ন, যানজট ও দখলমুক্ত নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই: নজরুল ইসলাম মঞ্জু ● খুলনার লবণচরায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে যুবক নিহত ● প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে স্থাপিত তোরণ-ব্যানার অপসারণের নির্দেশ খুলনা বিএনপির ● টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে এক ধাপ পিছিয়ে বাংলাদেশ ● যেকোনো হুমকির জবাবে তাৎক্ষণিক পাল্টা আঘাতের নির্দেশ খামেনির
আন্তর্জাতিক

সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় সব ধরনের সহায়তা দিচ্ছে পাকিস্তান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলা থেকে সৌদি আরবকে রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দিচ্ছে পাকিস্তান। সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও নিরাপত্তা রক্ষা ইসলামাবাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী।

রোববার সম্প্রচারিত ‘ইন্ডিপেনডেন্ট অ্যারাবিয়া’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। তাঁর বক্তব্যের বরাতে এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন।

আহমেদ শরীফ চৌধুরী বলেন, সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাকিস্তান প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে মক্কা ও মদিনার পবিত্র দুই মসজিদের নিরাপত্তার বিষয়টি পাকিস্তানের কাছে সর্বোচ্চ গুরুত্ব পায়। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।

সৌদি আরবের ওপর হুতি বিদ্রোহীদের হামলার বিষয়ে পাকিস্তানের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, এ ঘটনায় পাকিস্তানের সাধারণ মানুষ, রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সামরিক বাহিনীর মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। সৌদি আরব কিংবা পবিত্র স্থানগুলোতে হামলা বা হামলার হুমকি দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

সৌদি আরবকে সহায়তার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে পাকিস্তানের সামরিক মুখপাত্র বলেন, সামরিক জোটগুলো সাধারণত জনসমক্ষে তাদের সহায়তার সুনির্দিষ্ট বিবরণ বা পরিমাণ প্রকাশ করে না।

আত্মরক্ষামূলক প্রতিরক্ষা জোট

পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিষয়ে আহমেদ শরীফ চৌধুরী বলেন, এই জোটের কোনো আক্রমণাত্মক উদ্দেশ্য নেই। এর মূল লক্ষ্য আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

তিনি জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে বলেন, তিন দেশের যেকোনো একটির বিরুদ্ধে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে যুদ্ধ শুরু হলে সম্মিলিতভাবে তার জবাব দেওয়া হবে। এ অবস্থান আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারীদের জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা।

তিনি আরও বলেন, প্রতিরোধব্যবস্থা কার্যকর না হলে তিন দেশের হাতে থাকা সব ধরনের উপায় ব্যবহার করে তা পুনরায় কার্যকর করতে হবে।

হুতিদের হামলা অব্যাহত থাকলে সৌদি আরবের প্রতি পাকিস্তানের সহায়তা আত্মরক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, জোটটি সম্পূর্ণ আত্মরক্ষামূলক। তবে কোনো সদস্য দেশের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়লে সম্মিলিত প্রতিরোধব্যবস্থা কার্যকর হতে পারে।

ইরানসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা

ইরানকে পাকিস্তান কোনো সতর্কবার্তা দিয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে আইএসপিআরের মহাপরিচালক বলেন, পাকিস্তান ইরানসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। এসব আলোচনার মূল উদ্দেশ্য হলো সংযম বজায় রাখা এবং উত্তেজনা কমানো।

তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে কোনো সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। বরং এতে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা আরও বাড়তে পারে। তাই সামরিক সংঘাত এড়িয়ে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে পাকিস্তান।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সংঘাত শুরুর পর থেকেই পাকিস্তান সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সংযত থাকার এবং উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়ে আসছে। তবে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান সম্ভব না হলে এবং পরিস্থিতি সামরিক সংঘাতে গড়ালে মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের সম্মিলিত প্রতিরোধব্যবস্থা কার্যকর হতে পারে।

জোটে নতুন সদস্য নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত তিন দেশের

পাকিস্তানের সামরিক মুখপাত্র জানান, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা দীর্ঘদিনের সম্পর্কের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে একমত এবং জোটে যোগ দিতে আগ্রহী দেশগুলোর জন্য সুযোগ রয়েছে।

মিসর ও সিরিয়ার মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দেওয়ার আগ্রহের বিষয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট তিন দেশের রাজনৈতিক, কৌশলগত ও সামরিক নেতৃত্বের ওপর নির্ভর করছে।

চলতি মাসের শুরুতে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের প্রতিনিধিরা জোটের অধীনে জরুরি বৈঠক করেন। বৈঠকে সৌদি আরবে দ্রুত সামরিক বাহিনী ও সামরিক সক্ষমতা মোতায়েনের বিষয়ে একমত হওয়ার কথা জানানো হয়।

গত ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির লক্ষ্য তিন দেশের সম্মিলিত প্রতিরক্ষা জোরদার করা। চুক্তি অনুযায়ী, যেকোনো একটি সদস্য দেশের ওপর হামলাকে সব সদস্য দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

এর আগে গত ১৮ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের সামরিক মুখপাত্র জানিয়েছিলেন, সৌদি আরবের নিরাপত্তা রক্ষায় পাকিস্তানের অঙ্গীকার নিঃশর্ত। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই জোটের উদ্দেশ্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে আক্রমণ চালানো নয়; বরং সম্মিলিত প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করা।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

একটি মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/modhumot/public_html/wp-includes/functions.php on line 5581