খুলনা প্রতিনিধি
মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, ভাষা আন্দোলনের অন্যতম সৈনিক, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও সাবেক সংসদ সদস্য এম নুরুল ইসলাম দাদু ভাই খুলনার রাজনীতির আলোকবর্তিকা এবং জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের অগ্রপথিক ছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি ও খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা।
তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলন থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতা-পরবর্তী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে সাহসী ভূমিকা পালন করেছেন নুরুল ইসলাম দাদু ভাই। তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, দেশপ্রেম, ত্যাগ ও আদর্শ খুলনার রাজনৈতিক ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টায় খুলনা মহানগর বিএনপির উদ্যোগে দলীয় কার্যালয়ে সাবেক সংসদ সদস্য এম নুরুল ইসলাম দাদু ভাইয়ের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুল আলম মনা বলেন, নুরুল ইসলাম দাদু ভাই ছিলেন সৎ, ত্যাগী, সাহসী ও আদর্শবাদী নেতা। ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে তিনি দেশ, জনগণ ও গণতন্ত্রের পক্ষে কাজ করেছেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবন ছিল সংগ্রাম, নিষ্ঠা ও জনসেবার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাঁর নীতি, আদর্শ ও রাজনৈতিক দর্শন এখনো বিএনপির নেতা-কর্মীদের জন্য প্রেরণার উৎস।
তিনি আরও বলেন, নুরুল ইসলাম দাদু ভাই শুধু একজন রাজনীতিবিদ ছিলেন না, তিনি ছিলেন গণমানুষের নেতা। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে দেশ ও জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েছেন। ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠা, স্বাধীনতার সংগ্রাম এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে তাঁর অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা প্রয়োজন।
দাদু ভাইয়ের জীবন ও কর্ম থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশপ্রেম, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
শফিকুল আলম মনা বলেন, রাজনৈতিক জীবনে নানা প্রতিকূলতা ও চ্যালেঞ্জের মধ্যেও নুরুল ইসলাম দাদু ভাই নিজের আদর্শ ও অবস্থানে অবিচল ছিলেন। তাঁর স্মৃতি ধারণ করার অর্থ শুধু তাঁকে স্মরণ করা নয়, বরং তাঁর আদর্শকে রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে বাস্তবায়ন করা। মানুষের অধিকার, গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
কাজী মাহমুদ আলীর সঞ্চালনায় স্মরণসভায় প্রয়াত নেতা এম নুরুল ইসলাম দাদু ভাইয়ের রাজনৈতিক জীবন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অবদান এবং খুলনার রাজনীতিতে তাঁর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
এ সময় বক্তব্য দেন বদরুল আনাম খান, ইঞ্জিনিয়ার নুরুল ইসলাম বাচ্চু, নুরুজ্জামান নিশাত, জাকির ইকবাল বাপ্পী, কে এম এ জলিল, ওলামা দলের মাওলানা ফারুক হুসাইন, আশরাফুল ইসলাম নূর, সামসুর বারী পান্না, শেখ আবু সাইদ, মো. শফিকুল ইসলাম জোয়ার্দার জলি, কাজী নজরুল ইসলাম, মো. মাহমুদ আলম মোড়ল, শেখ মোস্তফা কামাল, মো. আবুল ওয়ারা, কাজী মো. মিজানুর রহমান, সাইফুল ইসলাম, মেশকাত আলী, মঈনুল ইসলাম কিরন, মাহাবুব উল্লাহ সামিম, কামাল হোসেন, তৌহিদুল ইসলাম বাবু, জাহিদুর রহমান, ফয়েজুর রহমান, মো. ইয়াছিন মোল্লা, শেখ মনিরুল ইসলাম, ডা. শাহিন আহসান, মুর্শিদুর রহমান লিটন, নজরুল ইসলাম, মো. আসাদ, শহিদুল ইসলাম, আরিফুর রহমান, নুরুল হুদা পলাশ ও কাজী ওয়াইজ উদ্দিন আহম্মেদসহ বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা।
স্মরণসভা শেষে মরহুম এম নুরুল ইসলাম দাদু ভাইয়ের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা মোহাম্মদ আবু নাঈম কাজী। এ সময় মরহুমের পরিবার-পরিজন, দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করা হয়।

