আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকা বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) কার্যক্রম বাতিলের দাবিতে দিল্লিসহ দেশটির বিভিন্ন রাজ্যে বিক্ষোভ হয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় অভিমুখে মিছিল চলাকালে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে পুলিশ। এ ছাড়া কেরালা ও পাঞ্জাবেও জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও পদক্ষেপ নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তামিলনাড়ুতে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠক থেকে ওয়াকআউট করেছে ক্ষমতাসীন দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে) ও তাদের জোটসঙ্গীরা।
দিল্লিতে মিছিলে বাধা, আটক কয়েকজন
দিল্লির কনট প্লেস এলাকার বাংলা সাহিব গুরুদুয়ারা থেকে প্যাটেল চকের কাছে নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় পর্যন্ত মিছিলের ডাক দেয় ‘পিপল অ্যাগেইনস্ট এসআইআর’ নামের একটি জোট। শুক্রবার মিছিলটি নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের দিকে যাওয়ার সময় বিক্ষোভকারীদের আটক করে পুলিশ।
শিক্ষার্থী, কৃষক ও নাগরিক সমাজের বিভিন্ন সংগঠনকে নিয়ে সপ্তাহখানেক আগে জোটটি গঠিত হয়। শুক্রবারের মিছিলে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপককেও।
গত ১৮ অক্টোবর দেওয়া এক বিবৃতিতে ‘পিপল অ্যাগেইনস্ট এসআইআর’ জানায়, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে তাদের মিছিলের জন্য পুলিশের অনুমতি নেওয়া হবে না। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ না করতে পুলিশ, আধা সামরিক বাহিনী ও কারা কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানায় সংগঠনটি।
‘প্রতিটি গলি যন্তর মন্তর, প্রতিটি গ্রাম যন্তর মন্তর, আমার বাড়িই যন্তর মন্তর’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে দেশজুড়ে ‘নো এসআইআর’ প্রচারাভিযান চালানোর পরিকল্পনা করেছে জোটটি।
কেরালায় বাম জোটের বিক্ষোভ
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শুক্রবার কেরালা রাজ্যে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এলডিএফ)। এতে সংশ্লিষ্ট ছাত্রসংগঠনগুলোও অংশ নেয়।
এসআইআর নিয়ে বিতর্কের মধ্যে রাজ্যের নতুন গভর্নর ওম প্রকাশ মাথুরের দায়িত্ব গ্রহণের দিন লোকভবন অভিমুখে এ মিছিল বের করা হয়।
পাঞ্জাব বিধানসভায় প্রস্তাব
এদিকে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে শুক্রবার পাঞ্জাব বিধানসভায় একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। রাজ্যের অর্থমন্ত্রী হরপাল সিং চিমা প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন।
প্রস্তাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ভূমিকা এবং ভোটার নিবন্ধন হালনাগাদে নেওয়া প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলোর বিষয়ে স্বাধীন তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
তামিলনাড়ুতে সর্বদলীয় বৈঠক থেকে ওয়াকআউট
ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে তামিলনাড়ুতে অনুষ্ঠিত সর্বদলীয় বৈঠক থেকে ওয়াকআউট করেছে রাজ্যের ক্ষমতাসীন দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে) ও তাদের জোটসঙ্গীরা।
শুক্রবার চেন্নাইয়ের সচিবালয়ে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তা অর্চনা পট্টনায়েকের নেতৃত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠক থেকে বেরিয়ে রাজ্যের আইনমন্ত্রী সি টি আর নির্মল কুমার সাংবাদিকদের বলেন, এসআইআর কার্যক্রম চলাকালে ব্যাপক ভুলত্রুটি হয়েছে। এসবের দায় নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেন তিনি।
থানায় হাজির সিজেপির দুই নেতা
এদিকে দুটি মামলার তদন্তে হাজির হতে শুক্রবার দুপুরে দিল্লির মন্দির মার্গ থানায় যান সিজেপি নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা। এর আগে পুলিশ তাদের তলব করলেও বৃহস্পতিবার তারা নির্ধারিত সময়ে হাজির হননি।
থানার বাইরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সৌরভ দাস বলেন, পুলিশের কাছে কী ঘটে, তা দেখার পর পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করা হবে।
এর আগে বৃহস্পতিবার দিল্লি পুলিশের অপরাধ তদন্ত শাখা সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা ও সিজেপির সদস্য অজিঙ্কা শিন্ডেকে দুটি মামলার তদন্তে অংশ নিতে নোটিশ দিয়েছিল।
নির্বাচন কমিশনে প্রশাসনিক দ্বন্দ্ব
ভারতের নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক দ্বন্দ্বের বিষয়টিও নতুন করে সামনে এসেছে। কমিশনের দুই নির্বাচন কমিশনার এক শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের সিদ্ধান্ত নিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
কমিশনারদের অভিযোগ, কমিশনের পূর্বানুমোদন ছাড়াই ওই কর্মকর্তা দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করেছেন। তথ্য জানার অধিকার (আরটিআই) আইনের আওতায় মন্ত্রিপরিষদ সচিবালয় থেকে পাওয়া ১৪ পৃষ্ঠার সরকারি নথির বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
কংগ্রেসকে ‘পরজীবী’ বললেন মোদি
অন্যদিকে ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসকে ‘পরজীবী’ আখ্যা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেসের কারণে সরকারের সমালোচনা এবং ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনগুলোর কণ্ঠস্বর চাপা পড়ে যাচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ‘এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড সামিট ২০২৬’-এর মূল বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কংগ্রেসকে আক্রমণ করতে গিয়ে মোদি দলটিকে ‘মানসিক নকশাল’ ও ‘ব্যর্থ পণ্য’ বলেও উল্লেখ করেন।
ভারতে ভোটার তালিকা সংশোধন কার্যক্রমকে ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর বিরোধিতা, বিভিন্ন রাজ্যে বিক্ষোভ এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবির মধ্যেই এসব ঘটনা ঘটল।

