স্পোর্টস ডেস্ক
বার্সেলোনায় খেলার ইচ্ছা প্রকাশ করে আতলেতিকো মাদ্রিদের সমর্থকদের বিরাগভাজন হয়েছিলেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড হুলিয়ান আলভারেজ। এবার প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে সমর্থকদের সঙ্গে দূরত্ব কমানোর চেষ্টা করেছেন তিনি। আলভারেজের এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন আতলেতিকোর কোচ দিয়েগো সিমিওনে। তাঁর মতে, আলভারেজ বিনয়ী ও পরিশ্রমী একজন খেলোয়াড়।
দেপোর্তিভো লা করুনার বিপক্ষে ১-০ গোলের জয়ের পর সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চান আলভারেজ। এর আগে বার্সেলোনায় খেলার সম্ভাবনা নিয়ে তাঁর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল আতলেতিকো সমর্থকদের মধ্যে। চলতি মৌসুমে ঘরের মাঠে শুরুর দিকের কয়েকটি ম্যাচে তাঁকে দুয়োও শুনতে হয়েছে। তবে দেপোর্তিভোর বিপক্ষে জয়সূচক গোল করার পর মেত্রোপলিতানো স্টেডিয়ামের অনেক সমর্থক দাঁড়িয়ে তাঁকে অভিবাদন জানান।
আলভারেজের ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছেন সিমিওনে। ম্যাচ শেষে আর্জেন্টাইন এই কোচ বলেন, ‘ক্ষমা চাওয়ার মুহূর্তটিকে আমি অনেক মূল্য দিই। কারণ, এটা সহজ নয়। হুলিয়ান একজন বিনয়ী ও পরিশ্রমী ছেলে। সে সতীর্থদের ভালোবাসে। তার ক্ষমা চাওয়াকে আমি সম্মান করি, কারণ এর মাধ্যমে সে নিজের অবস্থান বুঝিয়েছে।’
আলভারেজের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল কি না, তা বিচার করতে চান না জানিয়ে সিমিওনে আরও বলেন, ‘আমি এখানে এটা বিচার করতে আসিনি যে কাজটি ঠিক ছিল নাকি ভুল। জীবন এভাবেই এগোয়। আমি বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে নিচ্ছি। এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।’
২০২৬ বিশ্বকাপের সময় বার্সেলোনার হয়ে খেলার স্বপ্নের কথা জানিয়েছিলেন আলভারেজ। এরপর থেকেই তাঁকে ঘিরে দলবদলের গুঞ্জন শুরু হয়। গ্রীষ্মকালীন দলবদলের সময় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়। এর প্রভাব পড়ে আতলেতিকো সমর্থকদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কে। তবে দেপোর্তিভোর বিপক্ষে জয়সূচক গোল এবং পরবর্তী সময়ে ক্ষমা চাওয়ার মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছেন এই আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড।
আলভারেজের পারফরম্যান্সেও সন্তুষ্ট সিমিওনে। তিনি বলেন, ‘সে দারুণ খেলেছে। সমর্থকেরা তার গোলকে দলের গোলের মতো করেই উদ্যাপন করেছে। হুলিয়ানও দুর্দান্ত খেলেছে, যেমনটা সে চ্যাম্পিয়নস লিগের আগের ম্যাচেও খেলেছিল। আমাদের এই ছন্দের হুলিয়ানকে প্রয়োজন।’
দেপোর্তিভোর বিপক্ষে এই জয়ে শিরোপার লড়াইয়েও নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে আতলেতিকো। পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার সঙ্গে ব্যবধান কমে দাঁড়িয়েছে দুই পয়েন্টে। সাম্প্রতিক সময়ে দলের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন আলভারেজ। সর্বশেষ তিন ম্যাচে একটি গোলে সহায়তা করার পাশাপাশি নিজে করেছেন দুটি গোল।
তবে দেপোর্তিভোর বিপক্ষে জয় পেলেও দলের পারফরম্যান্সে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন সিমিওনে। ম্যাচ শেষে তিনি স্বীকার করেন, প্রত্যাশা অনুযায়ী খেলতে পারেনি তাঁর দল।
সিমিওনে বলেন, ‘এটা কঠিন ম্যাচ ছিল। বলের দখল ফিরে পেতে আমাদের অনেক কষ্ট হয়েছে। আমরা যেভাবে খেলতে চেয়েছিলাম, সেভাবে খেলতে পারিনি। মাঠে আমরা স্বচ্ছন্দ ছিলাম না।’
দ্বিতীয়ার্ধে বদলি খেলোয়াড় নামিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন আতলেতিকো কোচ। তাঁর মতে, পরিবর্তিত খেলোয়াড়েরা দলকে নতুন গতি দিয়েছেন এবং গোলের সুযোগও তৈরি করেছেন। তবে ব্যবধান বাড়াতে না পারায় শেষ দিকে চাপে পড়ে দলটি।
এ প্রসঙ্গে সিমিওনে বলেন, ‘আমরা কিছু পরিবর্তন এনেছিলাম। তাতে দলের শক্তি ও গতি বেড়েছে, গোলের সুযোগও তৈরি হয়েছে। ১-০ ব্যবধানের ম্যাচে শেষ পর্যন্ত ফল নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণেই সরলথকে নামানো হয়েছিল। কিন্তু গোল করতে না পারায় এমন ফলের ম্যাচে যে আতঙ্ক তৈরি হয়, আমরাও তাতে পড়ে গিয়েছিলাম।’
সব মিলিয়ে জয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন আতলেতিকো কোচ। তিনি বলেন, ‘আমি ফলে খুব খুশি। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ, হুলিয়ান আজ স্টুটগার্টের ম্যাচের মতোই খেলেছে এবং আমাদের তিন পয়েন্ট এনে দিয়েছে।’
আতলেতিকো মাদ্রিদের পরবর্তী ম্যাচ আগামী ৩১ অক্টোবর, প্রতিপক্ষ লেভান্তে।

