রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬ যোগাযোগ আমাদের পরিচয়
English
সর্বশেষ খুলনাকে পরিচ্ছন্ন, যানজট ও দখলমুক্ত নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই: নজরুল ইসলাম মঞ্জু ● খুলনার লবণচরায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে যুবক নিহত ● প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে স্থাপিত তোরণ-ব্যানার অপসারণের নির্দেশ খুলনা বিএনপির ● টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে এক ধাপ পিছিয়ে বাংলাদেশ ● যেকোনো হুমকির জবাবে তাৎক্ষণিক পাল্টা আঘাতের নির্দেশ খামেনির
খুলনা বিভাগ

২ কোটি ৫১ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ, দুদকের মামলায় জেলা পরিষদের সাবেক কর্মকর্তা

খুলনা প্রতিনিধি

জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ২ কোটি ৫১ লাখ ৭৩ হাজার ২০০ টাকার সম্পদ অর্জন এবং সম্পদ বিবরণীতে প্রায় ৫০ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে খুলনা জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা এস এম মাহাবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বর্তমানে তিনি নেত্রকোনা জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

রোববার (২৫ অক্টোবর) দুদকের খুলনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সংস্থাটির সহকারী পরিচালক মো. জাহিদ ফজল মামলাটি করেন। দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, সম্পদ বিবরণীতে এস এম মাহাবুবুর রহমান ৭৬ লাখ ৭৭ হাজার ২০০ টাকার স্থাবর এবং ১ কোটি ৭১ লাখ ৮৭ হাজার ৭৫১ টাকার অস্থাবর সম্পদের ঘোষণা দেন। ঘোষিত সম্পদের মোট মূল্য ২ কোটি ৪৮ লাখ ৬৪ হাজার ৯৫১ টাকা।

তবে দুদকের অনুসন্ধানে তাঁর নামে ২ কোটি ২৯ লাখ ২২ হাজার ২৮৮ টাকার স্থাবর এবং ১ কোটি ৯১ লাখ ১৪ হাজার ৪০৮ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। এ হিসাবে তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ কোটি ২০ লাখ ৩৬ হাজার ৬৯৬ টাকা।

এজাহারে বলা হয়েছে, ব্র্যাক ব্যাংকের খুলনার বড় বাজার শাখা ও সোনালী ব্যাংকের স্যার ইকবাল রোড শাখায় তাঁর মোট দায় রয়েছে ১৪ লাখ ৯৬ হাজার ৭৪১ টাকা। এই দায় বাদ দেওয়ার পর তাঁর নিট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ কোটি ৫ লাখ ৩৯ হাজার ৯৫৫ টাকা।

দুদকের অনুসন্ধানে তাঁর গ্রহণযোগ্য আয়ের পরিমাণ পাওয়া গেছে ২ কোটি ৩১ লাখ ৬০ হাজার ৪১৩ টাকা। এর বিপরীতে পারিবারিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৭ লাখ ৯৩ হাজার ৬৫৮ টাকা। ব্যয় বাদ দেওয়ার পর তাঁর নিট আয় বা সঞ্চয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ কোটি ৫৩ লাখ ৬৬ হাজার ৭৫৫ টাকা।

দুদকের হিসাব অনুযায়ী, তাঁর নিট সম্পদের সঙ্গে গ্রহণযোগ্য আয় ও ব্যয় সমন্বয়ের পর ২ কোটি ৫১ লাখ ৭৩ হাজার ২০০ টাকার সম্পদের অসংগতি পাওয়া গেছে। জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ এই সম্পদ অর্জন ও নিজ মালিকানায় রাখার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারায় মামলা করা হয়েছে।

অন্যদিকে, সম্পদ বিবরণীতে ৩০ লাখ ৫৬ হাজার ৫৬৩ টাকার স্থাবর এবং ১৯ লাখ ২৬ হাজার ৫৫৭ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগও আনা হয়েছে। গোপন করা সম্পদের মোট মূল্য ৪৯ লাখ ৮৩ হাজার ১২০ টাকা। এ অভিযোগে একই আইনের ২৬(২) ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক।

অভিযোগ অস্বীকার কর্মকর্তার

দুদকের আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এস এম মাহাবুবুর রহমান। তাঁর দাবি, আয়কর বিবরণীতে তাঁর আয় ও সম্পদের হিসাব রয়েছে। দুদকের অনুসন্ধানে তাঁর বাবার নামে থাকা জমির ওপর নির্মিত একটি বাড়ির সম্পদও তাঁর হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

মাহাবুবুর রহমান জানান, ওই বাড়িতে দুই কক্ষের একটি অতিথিশালা রয়েছে, যেখানে তাঁর আত্মীয়স্বজন থাকেন।

তিনি আরও দাবি করেন, ২০১৫ সাল পর্যন্ত তাঁর সম্পদ নিয়ে দুদকের অনুসন্ধান হয়েছিল। সে সময়ও কিছু বিষয়ে আপত্তি জানানো হয়েছিল। বর্তমান অনুসন্ধানেও চাওয়া তথ্য দিয়েছেন এবং আগের হিসাবে অন্তর্ভুক্ত সম্পদ বাদ দিয়ে হিসাব জমা দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

নিজের বিরুদ্ধে করা মামলার বিষয়ে মাহাবুবুর রহমান বলেন, ‘এগুলো কোর্টে টিকবে না।’

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

একটি মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/modhumot/public_html/wp-includes/functions.php on line 5581