রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬ যোগাযোগ আমাদের পরিচয়
English
সর্বশেষ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে এক ধাপ পিছিয়ে বাংলাদেশ ● যেকোনো হুমকির জবাবে তাৎক্ষণিক পাল্টা আঘাতের নির্দেশ খামেনির ● লংমার্চের নামে ১১ দলীয় ঐক্যজোট গাড়িমার্চ করছে: সংস্কৃতিমন্ত্রী ● বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন অধরাই থেকে গেলো, মুক্তিপণের জন্য হত্যা রাকিবকে ● সাতক্ষীরার তালায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১, আহত অন্তত ২০
আইন ও আদালত

মিরপুরে রাড্ডা ক্লিনিকে হামলা-লুটপাট ঘটনায় চার আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে মধ্যরাতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সিদ্দিক আজাদ তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট শাহআলী থানার প্রসিকিউশন সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন—মো. সোহেল (২২), মো. জুয়েল (২৩), মো. জিহাদ হাসান (২১) ও মো. রাবিব (২০)।

এর আগে মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আসামিদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন শাহআলী থানার উপপরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. আতোয়ার রহমান।

মামলার এজাহার ও আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ৫ মিনিটের দিকে শাহআলী থানাধীন রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে একদল লোক হ্যামার, লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করে। তারা প্রতিষ্ঠানের প্রাচীর টপকে ভেতরে ঢুকে দায়িত্বে থাকা দুই নৈশপ্রহরী আন্দ্রিয় সরকার (৪৩) ও মো. আব্দুল হাইকে (৬৩) মারধর করে বেঁধে রাখে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরে হামলাকারীরা হ্যামার দিয়ে প্রতিষ্ঠানের প্রধান ফটক ভেঙে একটি ভেকু নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর প্রতিষ্ঠানের পূর্ব পাশে থাকা প্রায় ২৮ ফুট দীর্ঘ ও ১৫ ফুট প্রস্থের একটি সেমিপাকা ঘর ভেকু দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়। এতে প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া পরিবার পরিকল্পনা সেবা দেওয়ার আরেকটি সেমিপাকা ঘর ও এর আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। এতে প্রায় ৪ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে। ক্লিনিক ইনচার্জ, চিকিৎসক ও ডেপুটি ক্লিনিক ইনচার্জের ব্যবহৃত প্রায় ৬০ ফুট দীর্ঘ ও ১৭ ফুট প্রস্থের সেমিপাকা ঘর, আসবাবপত্র ও যন্ত্রপাতিও ভাঙচুর করা হয়। এতে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২০ লাখ টাকা বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া প্রায় ১০০ ফুট দীর্ঘ ও ৪০ ফুট প্রস্থের রেজিস্ট্রেশন শাখায় ভাঙচুর চালানো হয়। এতে আরও প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। আল্ট্রাসনোগ্রাম, টিকাদান ও ল্যাবরেটরি কক্ষের পাকা ভবনের দরজা-জানালাও ভাঙচুর করা হয়। এতে প্রায় ২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা প্রতিষ্ঠান থেকে বিভিন্ন ওষুধ ও সামগ্রী, দুটি আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, একটি জেনারেটর, দুটি কম্পিউটার, দুটি প্রিন্টার, তিনটি ফ্রিজ, তিনটি এসি ও তিনটি স্টিলের আলমারি নিয়ে যায়। এসব মালামালের আনুমানিক মূল্য ৬০ লাখ টাকা বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, পাঁচটি ঘর, দরজা-জানালা ভাঙচুর এবং বিভিন্ন মালামাল লুটের ঘটনায় মোট প্রায় ১ কোটি ৯ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। হামলাকারীরা চলে যাওয়ার সময় নৈশপ্রহরীদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেয় এবং সেখানে একটি দোকানদার সমবায় সমিতির ব্যানার ও সাইনবোর্ড লাগিয়ে যায় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার শাহআলী থানায় মামলা করেন। মামলায় মো. হানিফ মিয়াসহ (৫০) অজ্ঞাতনামা ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এজাহারে বলা হয়, প্রায় ৫০ বছর ধরে সরকার থেকে চুক্তির মাধ্যমে পাওয়া জমিতে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, ইপিআই টিকাদান ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা দিয়ে আসছে। পূর্বশত্রুতার জেরে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন বাদী।

এজাহার অনুযায়ী, হামলাকারীদের অনেকে মাথায় লাল কাপড় বাঁধা ও মুখোশ পরা অবস্থায় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে। তারা দুই নিরাপত্তাকর্মীকে মারধর করে আটকে রাখার পর বিভিন্ন স্থাপনা ও কক্ষে ভাঙচুর চালায়।

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, হামলাকারীরা সরকারি ইপিআই টিকার সামগ্রী, টিকা প্রদানের রেজিস্টার ও নথি, পরিবার পরিকল্পনার বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও উপকরণ, ওষুধ ও ভ্যাকসিন, নগদ প্রায় ১১ লাখ ৪০ হাজার টাকা, প্রায় ৪৫ লাখ টাকা মূল্যের একটি আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, একটি জেনারেটর, তিনটি ফ্রিজ, তিনটি এসি, সিসিটিভি ক্যামেরা, তিনটি স্টিলের আলমারি, পাঁচটি স্টিলের ফাইল কেবিনেট, ল্যাবরেটরির যন্ত্রপাতি ও রিএজেন্ট, দুটি টিভি, দুটি কম্পিউটার, দুটি ল্যাপটপ, দুটি প্রিন্টারসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র নিয়ে যায়। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, হামলা ও লুটপাটে তাদের প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, গ্রেপ্তার চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। অর্থের বিনিময়ে হামলায় অংশ নেওয়ার বিষয়েও তাদের কাছ থেকে তথ্য পাওয়া গেছে বলে পুলিশ দাবি করেছে। তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা শাহআলী থানার বাসিন্দা না হওয়ায় তাদের দেওয়া নাম-ঠিকানা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে আদালতকে জানান তদন্ত কর্মকর্তা।

পুলিশের দাবি, প্রাথমিক তদন্তে চার আসামির বিরুদ্ধে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। তারা জামিনে মুক্তি পেলে তদন্তে বিঘ্ন সৃষ্টি ও পলাতক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়।

পুলিশের সিডিএমএস ও থানার রেকর্ড যাচাই করে দেখা যায়, গ্রেপ্তার মো. জুয়েলের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালে একটি মাদক মামলা রয়েছে।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

একটি মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/modhumot/public_html/wp-includes/functions.php on line 5581