স্টাফ রিপোর্টার:
ভোক্তা অধিকার ক্ষুণ্ন করা এবং বাজারে অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে খুলনা বিভাগে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ৯টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) খুলনা বিভাগীয় কার্যালয় এবং বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন জেলা কার্যালয়ের মোট ৬টি তদারকি টিম দিনব্যাপী এই অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানকালে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী, চাল, ভোজ্যতেল, এলপিজি গ্যাস, ওষুধ, ডায়াগনস্টিক সেবা, আলু, দেশি পেঁয়াজ, সবজি, মুরগি ও ডিমের বাজারদর এবং ক্রয়-বিক্রয় ভাউচার যাচাই করা হয়। একই সঙ্গে সকল ব্যবসায়ীকে সরকার নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রি করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
অভিযান সূত্রে জানা যায়:
খুলনা মহানগরী (সদর থানা): বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ সেলিম এর নেতৃত্বে শের-এ-বাংলা রোড এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় যথাযথ সেবা সরবরাহ না করায় ‘তাক্বওয়া ডেন্টাল কেয়ার’-কে ৩ হাজার টাকা এবং পণ্যের মোড়ক যথাযথভাবে ব্যবহার না করায় ‘রীমা মটরস’-কে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
ময়লাপোতা এলাকা: বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক দিনারা জামান এর নেতৃত্বে ময়লাপোতা এলাকায় অভিযান চালিয়ে পণ্যের মোড়ক ব্যবহারে অনিয়মের দায়ে ‘এস এস লাইভ বেকারী’-কে ২ হাজার টাকা এবং ‘মেসার্স টগর এন্টারপ্রাইজ’-কে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
সাতক্ষীরা: জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ মেহেদী হাসান তানভীর এর নেতৃত্বে তালা উপজেলার মদনপুর বাজারে অভিযান চালানো হয়। সেখানে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণ ও বিক্রি এবং পণ্যের মোড়ক ব্যবহারের অপরাধে ‘মা মেডিকেল হল’-কে ১০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়।
কুষ্টিয়া: জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ মাসুম আলী এর নেতৃত্বে মিরপুর উপজেলার মশান বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোড়কজাতকরণ আইন লঙ্ঘনের দায়ে ‘শাহাদাত স্টোর’-কে ৬ হাজার টাকা এবং ‘আনোয়ার স্টোর’-কে ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
বাগেরহাট: জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শরিফা সুলতানা এর নেতৃত্বে সদর উপজেলার ঘোষপট্টি বাজারে অভিযান চালিয়ে অবৈধ প্রক্রিয়ায় খাদ্যদ্রব্য উৎপাদনের অপরাধে ‘আসিম মিষ্টান্ন ভান্ডার’-কে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
যশোর: জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ সেলিমুজ্জামান এর নেতৃত্বে সদর উপজেলার বাবলাতলা বাজারে অভিযান চালিয়ে মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করার অপরাধে ‘জামাল হোটেল’-কে ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযান পরিচালনাকালে তদারকি দলের কর্মকর্তারা ব্যবসায়ীদের সচেতন করার পাশাপাশি দৃশ্যমান স্থানে বাধ্যতামূলকভাবে মূল্য তালিকা প্রদর্শন, ক্রয়-বিক্রয় ভাউচার সংরক্ষণ এবং সরকার নির্ধারিত দামে পণ্য বিক্রির কঠোর নির্দেশনা দেন। নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দাম নিলে বা আইন অমান্য করলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনস্বার্থে ও বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে এই অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

