আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
কারাগারে থাকা সাবেক পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তিসহ বিভিন্ন দাবিতে আবারও রাজপথে নেমেছে তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। সরকারের সঙ্গে দুই দফা আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল থেকে ইসলামাবাদমুখী বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেছেন দলটির নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা।
রোববার শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ অংশ নিয়েছেন বলে জানা গেছে। পিটিআইয়ের এই মিছিলটি গত ২৭ সেপ্টেম্বর হওয়ার কথা ছিল। তবে সরকার ও দলটির নেতৃত্বের মধ্যে আলোচনার সুযোগ দিতে কর্মসূচি ৪ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত করা হয়। আলোচনা থেকে কোনো সমঝোতা না আসায় নির্ধারিত সময়েই নতুন করে বিক্ষোভ শুরু করে দলটি।
সরকার ও পিটিআইয়ের মধ্যে দুই দফা আলোচনা হলেও কোনো বিষয়ে সমঝোতা হয়নি। এরপর ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় পিটিআই। দলটির দাবি, সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতেই এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা একাধিক মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছে পিটিআই। দলটির ভাষ্য, এসব মামলার অধিকাংশের সাজা আপিলে স্থগিত বা বাতিল হয়েছে। বর্তমানে একটি মামলা ছাড়া অন্য মামলাগুলোতে তার সাজা স্থগিত বা বাতিল রয়েছে।
পিটিআইয়ের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, দলটির নিয়ন্ত্রিত খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সমর্থকেরা মিছিল ও গাড়িবহর নিয়ে কর্মসূচিতে যোগ দিচ্ছেন।
খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছিলেন, ইমরান খানের সমর্থনে বিক্ষোভ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। তিনি জানান, মিছিলটি বৃহস্পতিবার ইসলামাবাদের প্রায় ৮০ কিলোমিটার পশ্চিমে খাইরাবাদে পৌঁছাবে। সেখানে আন্দোলনের ‘পরবর্তী ধাপের’ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
ইসলামাবাদমুখী এ মিছিলকে কেন্দ্র করে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তান সরকার। রাজধানীতে প্রবেশের প্রধান সড়কগুলোতে শিপিং কনটেইনার দিয়ে ব্যারিকেড তৈরি করা হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি জানিয়েছেন, সরকার ও পিটিআইয়ের মধ্যে আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে। তিনি পিটিআই নেতাদের রাজধানীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আইন ভঙ্গ করে বিক্ষোভ করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নকভি আরও বলেন, ইসলামাবাদ হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী রাজধানীর সড়ক, মহাসড়ক ও সরকারি স্থাপনা দখল করে কোনো রাজনৈতিক দলের বিক্ষোভ করার সুযোগ নেই। এ নির্দেশনা অমান্য করলে দলীয় কর্মী কিংবা নেতাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে কারাগারে ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পিটিআই। দলটির দাবি, বিশেষ করে তার ডান চোখের চিকিৎসার জন্য কয়েক মাস ধরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের প্রয়োজন হচ্ছে। পাশাপাশি গত মাসে গ্রেপ্তার হওয়া ইমরানের তিন বোনের মুক্তির দাবিও জানিয়েছে দলটি।
সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ফেলো জেমস ডরসি বলেন, ইমরান খানের ব্যাপক জনসমর্থন রয়েছে। এ কারণেই সরকার বিক্ষোভকারীদের ইসলামাবাদে প্রবেশ ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তবে তার মতে, এই আন্দোলন সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলেও তা সরকারের অস্তিত্বের জন্য হুমকি নয়।

