আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকারের কঠোর সমালোচনা করে একে ‘স্বৈরাচারী’ বলে আখ্যা দিয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিত দীপকে। বৃহস্পতিবার দিল্লি প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
অভিজিত দীপকে বলেন, ‘নরেন্দ্র মোদি একজন স্বৈরাচারীতে পরিণত হয়েছেন। কিন্তু তাঁর জরুরি অবস্থা জারি করার মতো সাহস নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা যদি এ ধরনের মানুষদের আটক করতেই চান, তাহলে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করুন। আর কতকাল মানুষকে বোকা বানিয়ে রাখবেন?’
যন্তর মন্তরকে প্রতিবাদের স্থান হিসেবে ব্যবহারে বাধা এবং সিজেপি নেতাদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে আগামী শুক্রবার দিল্লির কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন তিনি। এ কর্মসূচিতে অংশ নিতে সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা।
এদিকে গত কয়েক দিনে সিজেপির কর্মী, বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের সদস্য, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে পুলিশের কঠোর পদক্ষেপ এবং আটকের ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এরই মধ্যে দুই দিন আগে জাতীয় পতাকা নিয়ে যন্তর মন্তরে যাওয়ায় সিজেপির কো-কনভেনর আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁদের পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়।
এ ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে অভিজিত দীপকে প্রশ্ন তোলেন, জাতীয় পতাকা ওড়ানো কবে থেকে অপরাধ হয়ে গেল? তিনি বলেন, ব্রিটিশ শাসনামলে এ ধরনের ঘটনা ঘটত, আর এখন মোদি ও অমিত শাহের পুলিশও একই কাজ করছে। নিজেদের দেশেই জাতীয় পতাকা ওড়ানোর অনুমতি না পাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অভিজিত আরও প্রশ্ন করেন, নরেন্দ্র মোদির কাছে জ্ঞানেশ কুমার জাতীয় পতাকার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠলেন কেন? তাঁর অভিযোগ, আশুতোষ ও সৌরভ জাতীয় পতাকা ওড়ানোয় কর্তৃপক্ষ আপত্তি জানিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে অভিজিত দীপকে বলেন, ‘এই দেশ গান্ধীর আদর্শ এবং বাবাসাহেবের সংবিধান অনুযায়ী চলবে।’

