আন্তর্জাতিক ডেস্ক
হরমুজ প্রণালিতে ইরানের হামলা জোরদার, সৌদি আরবে হুতি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা এবং রাশিয়ার তেল শোধনাগারে হামলা অব্যাহত রাখার ইউক্রেনের ঘোষণার মধ্যে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারে পৌঁছায়। চলতি বছরের মে মাসের পর এটি সর্বোচ্চ দাম। পরে কিছুটা কমে দিন শেষে ব্রেন্টের দাম দাঁড়ায় ১০৯ দশমিক ৮৬ ডলারে, যা আগের দিনের তুলনায় ৩ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি।
যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দামও ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০১ দশমিক ৪১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। চলতি সপ্তাহে ডব্লিউটিআইয়ের দাম ১০ শতাংশের বেশি এবং ব্রেন্টের দাম প্রায় ৫ শতাংশ বেড়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন ডিজেলের গড় দাম বেড়ে ৬ দশমিক ৩৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭০ শতাংশের বেশি। অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন অব আমেরিকার (এএএ) তথ্য অনুযায়ী, ডিজেলের এ মূল্যবৃদ্ধি দেশটির জ্বালানি ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেনের রুশ তেল শোধনাগারে হামলা এবং মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি অবকাঠামোয় ইরানের আঘাতের কারণে চলতি বছর ডিজেলের বাজারে চাপ বেড়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক তেলের মজুদ কমে যাওয়ায় সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের (ইআইএ) তথ্য অনুযায়ী, হারিকেন ইসাইয়াসের কারণে উপসাগরীয় উপকূলে উৎপাদন বন্ধ থাকায় ৯ অক্টোবর শেষ হওয়া সপ্তাহে দেশটির বাণিজ্যিক অপরিশোধিত তেলের মজুদ ৮০ লাখ ব্যারেলের বেশি কমেছে। মজুদের এ পতন বাজারে সরবরাহের চাপ বাড়িয়ে তেলের দাম বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।
অন্যদিকে, ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হওয়া কথিত ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতি’ দ্রুত ভেঙে পড়েছে। যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও রাশিয়া ইউক্রেনের অবকাঠামোয় হামলা অব্যাহত রেখেছে বলে অভিযোগ করেছে কিয়েভ। এর প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে আবারও হামলা চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
এদিকে সৌদি আরবের সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, লোহিত সাগরের ওপর দিয়ে ছোড়া কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে দেশটির বাহিনী। এর মধ্যে একটি ক্ষেপণাস্ত্র সৌদির ইয়ানবু তেল রপ্তানি টার্মিনালের দিকে যাচ্ছিল। এ ছাড়া রাজধানী রিয়াদ ও দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে তিনটি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে।
ইরানের মিত্র ইয়েমেনের হুতি যোদ্ধারা চলতি সপ্তাহে সৌদি আরবে একাধিক হামলা চালিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মঙ্গলবার ধাহরানে সৌদি রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি আরামকোর একটি প্রশাসনিক ভবনে হামলার কথা জানিয়েছে দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয়।
এর আগে ১০ অক্টোবর রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের হামলায় ১২ জন নিহত এবং ৩০০ জনের বেশি আহত হওয়ার তথ্যও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব এবং যুক্তরাষ্ট্রে তেলের মজুদ কমে যাওয়ার মতো ঘটনাগুলো বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। এর ফলে অপরিশোধিত তেল ও ডিজেলের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

