আন্তর্জাতিক ডেস্ক
হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা থেকে সৌদি আরবের শহর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় টাইফুন যুদ্ধবিমান মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং জানিয়েছেন, এসব যুদ্ধবিমান কেবল প্রতিরক্ষামূলক দায়িত্ব পালন করবে। হুতিদের ওপর কোনো হামলা চালাবে না।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ ও দেশটির জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হুতিদের হামলার পর এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাজ্য। ইরান-সমর্থিত হুতিরা ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। অন্যদিকে, সৌদি আরব ওই সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে।
মঙ্গলবার এক লিখিত বিবৃতিতে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা থেকে সৌদি আরবের শহর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষায় যুক্তরাজ্যের যুদ্ধবিমানগুলো সহায়তা করবে।
সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, সম্প্রতি দেশটির বিভিন্ন বিমানবন্দরে হুতিদের হামলায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে গত ১০ অক্টোবর রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৩ জন নিহত ও ৩০৮ জন আহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনীর দাবি, দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় শাবওয়া প্রদেশের একটি সামরিক প্রশিক্ষণশিবিরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৭০ জনের বেশি নিরাপত্তাকর্মী নিহত হয়েছেন। বাহিনীর এক মুখপাত্র জানান, আতাক শহরের কাছে আল-আলাম ক্যাম্পে তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। তবে হুতিদের সামরিক মুখপাত্রের দাবি, তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল সৌদি আরবের সামরিক ঘাঁটি।
ইয়েমেনে পাল্টাপাল্টি হামলায় হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে। হুতি-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, ৩ সেপ্টেম্বর থেকে সৌদি বিমান ও কামানের হামলায় অন্তত ১৪১ জন নিহত এবং ৩৯৫ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ইয়েমেন সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৬ আগস্ট থেকে দেশজুড়ে চলা সংঘাতে অন্তত ১ হাজার ২৮২ জন নিহত হয়েছেন। তবে এসব হতাহতের সংখ্যা ও হামলার বিবরণ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তুলে ধরা হয়েছে।
সৌদি আরবের অভ্যন্তরে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম পরিবহনে সহায়তার জন্য সামরিক উপদেষ্টা ও একটি এ৪০০এম পরিবহন বিমানও পাঠাবে যুক্তরাজ্য। এরই মধ্যে সৌদি আরবকে বিমান হামলা থেকে রক্ষায় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ করছে দেশটি। পাশাপাশি, সৌদি বাহিনীর অভিযানে ব্যবহৃত যুদ্ধবিমানগুলোকে আকাশে জ্বালানি সরবরাহ করছে ব্রিটিশ বাহিনী। এ জ্বালানি সরবরাহের মেয়াদ আরও ৯০ দিন বাড়ানো হয়েছে।
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং বলেন, রিয়াদ বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে হুতিদের হামলা প্রমাণ করে, আঞ্চলিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে তারা কতটা দূর যেতে পারে। এ কারণেই সৌদি আরবকে সহায়তা করতে অতিরিক্ত সামরিক সহায়তার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান সহিংসতার কারণে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে।
এদিকে, চলতি মাসের শুরুতে হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি সৌদি আরবের আরও গভীরে হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেন, সৌদি আরবের অভ্যন্তরে তাদের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

