বিশেষ প্রতিনিধি:
খুলনা নগর জুড়ে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে কেসিসি নির্বাচন। মনোনয়নকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নতুন সমীকরণ। এরই মধ্যে খুলনা থেকে সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ফের আলোচনায় মহিলা দল নেত্রী ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের পরিচিত মুখ সুজানা জলি।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে বিএনপির হাইকমান্ড এবার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে দীর্ঘদিনের ত্যাগী, রাজপথে সক্রিয়, শিক্ষিত ও অসাম্প্রদায়িক ভাবমূর্তির নারী নেত্রীদের। সেই মানদণ্ডে খুলনায় সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন জেলা মহিলা দলের সহ-সভাপতি সুজানা জলি।
খুলনার খালিশপুরে জন্ম নেওয়া সুজানা জলি বর্তমানে নগরীর গল্লামারী এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে খুলনার প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি ছিলেন সামনের সারির কর্মী। মিছিল-মিটিংয়ে নিয়মিত সক্রিয় থাকার কারণে তাকে এবং তার পরিবারকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার মুখে পড়তে হয়েছে বহুবার। তবুও দলীয় আদর্শ থেকে একচুলও সরে যাননি এই নেত্রী।
রাজনীতিতে সুজানা জলির পথচলা শুরু হয় নব্বইয়ের দশকে। খুলনার শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজে ছাত্রদলের রাজনীতির মাধ্যমে তার রাজনৈতিক জীবন শুরু। এরপর ২০১৬ সালে জেলা মহিলা দলে সদস্য হিসেবে যুক্ত হন এবং ধাপে ধাপে সাংগঠনিক দক্ষতা ও ত্যাগের মাধ্যমে বর্তমানে জেলা মহিলা দলের সহ-সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করছেন।
রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক ও ধর্মীয় অঙ্গনেও রয়েছে তার দৃঢ় অবস্থান। তিনি বর্তমানে খুলনা মহানগর খ্রিস্টান ঐক্যফ্রন্টের সভাপতি এবং হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের মহানগর সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি খুলনা সম্মিলিত নারী অধিকার ফোরাম এবং ইয়ং উইমেন অ্যাসোসিয়েশনের মতো বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত।
খুলনার তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মাঝেও সুজানা জলিকে নিয়ে ইতিবাচক সাড়া লক্ষ্য করা গেছে।
রাজপথের পরীক্ষিত নেতৃত্ব, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব সব মিলিয়ে খুলনায় সংরক্ষিত নারী আসনের দৌড়ে আলোচনার শীর্ষে এখন সুজানা জলি।

