খুলনা প্রতিনিধি:
ডিজিটাল যুগে অবাধ তথ্যপ্রবাহের পাশাপাশি মিসইনফরমেশন, ডিসইনফরমেশন ও ম্যালইনফরমেশনের মতো তথ্য বিভ্রাট সমাজ ও রাষ্ট্রে বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে। এসব অপতথ্য রোধে নাগরিকদের তথ্যের সত্যতা যাচাই বা ফ্যাক্টচেক করার প্রবণতা বাড়াতে হবে বলে জানিয়েছেন খুলনার জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এবার আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবসের প্রতিপাদ্য—‘ডিজিটাল যুগে সঠিক তথ্য নিশ্চিতকরণ: অপতথ্য রোধে তথ্য অধিকারের ভূমিকা’।
জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত বলেন, জনগণের সঠিক তথ্য প্রদান ও গ্রহণের অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়নে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ।
তিনি বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির কারণে তথ্যপ্রবাহ সহজ ও দ্রুত হয়েছে। তবে এর পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্যও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এ ধরনের তথ্য বিভ্রাট রোধে নাগরিকদের সচেতন হতে হবে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সতর্কতা বাড়াতে হবে।
একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক সমাজ গঠনে সঠিক তথ্য গ্রহণ এবং গুজব প্রতিরোধে সম্মিলিত সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, সঠিক তথ্য দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সরকারি প্রতিটি দপ্তরের নিজস্ব ওয়েবসাইট নিয়মিত হালনাগাদ করা প্রয়োজন।
আলোচনা সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবির সিদ্দিকী শুভ্র ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) ইরুফা সুলতানা বক্তব্য দেন। তথ্য অধিকার বিষয়ে ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর এরিয়া কোঅর্ডিনেটর মো. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন। স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা তথ্য অফিসের সহকারী তথ্য কর্মকর্তা তরুণ কুমার মণ্ডল।
জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস উপলক্ষে খুলনা সার্কিট হাউস চত্বর থেকে একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়। এতে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

