রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬ যোগাযোগ আমাদের পরিচয়
English
সর্বশেষ খুলনাকে পরিচ্ছন্ন, যানজট ও দখলমুক্ত নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই: নজরুল ইসলাম মঞ্জু ● খুলনার লবণচরায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে যুবক নিহত ● প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে স্থাপিত তোরণ-ব্যানার অপসারণের নির্দেশ খুলনা বিএনপির ● টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে এক ধাপ পিছিয়ে বাংলাদেশ ● যেকোনো হুমকির জবাবে তাৎক্ষণিক পাল্টা আঘাতের নির্দেশ খামেনির
খুলনা বিভাগ

খুলনায় ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু, নিয়োজিত ৩১৫ তথ্য সংগ্রহকারী

খুলনা প্রতিনিধি:

খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) এলাকায় ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের আওতায় পরিবারভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে। এ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ট্যাব সরবরাহ ও প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে বাকি ওয়ার্ডগুলোতেও তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হবে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেলে কেসিসির শহীদ আলতাফ মিলনায়তনে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের তথ্য সংগ্রহবিষয়ক অবহিতকরণ সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। এ সময় ঢাকায় তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন ও প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীনের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় সংবাদ সম্মেলনে অনলাইনে যুক্ত হন খুলনা প্রান্তের অতিথি ও অংশগ্রহণকারীরা। কেন্দ্রীয় সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

খুলনা প্রান্তের সংবাদ সম্মেলনে কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমে কোনো ধরনের বৈষম্যের সুযোগ নেই। তথ্য সংগ্রহকারীরা ট্যাবের মাধ্যমে তথ্য ইনপুট দিলে তা কেন্দ্রীয় ডেটাবেজে যুক্ত হবে।

তিনি জানান, কেসিসির ২, ৩ ও ১২ নম্বর ওয়ার্ডের আংশিক অংশ এবং ১৬, ১৭, ২৯ ও ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের নির্ধারিত অংশে তথ্য সংগ্রহকারীদের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে। এসব ওয়ার্ডের জন্য মোট ৬০টি ট্যাব পাওয়া গেছে। পরবর্তী সময়ে ট্যাব পাওয়া সাপেক্ষে পর্যায়ক্রমে অন্য ওয়ার্ডগুলোর কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হবে।

কেসিসি প্রশাসক আরও জানান, খুলনা-৩ আসনের আওতাধীন শহর সমাজসেবা কার্যালয়-৩-এর অধীনে ১ থেকে ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের জন্য রিজার্ভসহ ১১৭ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও ১২ জন সুপারভাইজার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, খুলনা-২ আসনের আওতাধীন শহর সমাজসেবা কার্যালয়-১-এর অধীনে ১৬, ১৭, ১৮, ১৯, ২০, ২৫ ও ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে ৮৪ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও ৯ জন সুপারভাইজার এবং শহর সমাজসেবা কার্যালয়-২-এর অধীনে ২১, ২২, ২৩, ২৪, ২৭, ২৮, ২৯, ৩০ ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে ১০৪ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও ১০ জন সুপারভাইজার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

দেশজুড়ে তথ্য সংগ্রহে ৬৬ হাজারের বেশি কর্মী

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সোমবার থেকে দেশব্যাপী একযোগে পরিবার বা খানাভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড খানা তথ্যভান্ডারের তথ্য সংগ্রহ নির্দেশিকা-২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। সারা দেশে ৬৬ হাজার ৮১৫ জন তথ্য সংগ্রহকারী এবং ৬ হাজার ৬৮১ জন সুপারভাইজার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

নিয়োজিত কর্মীরা মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বিশেষায়িত ট্যাবলেটের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করবেন। সংগৃহীত তথ্য সরাসরি অনলাইন ডেটাবেজে যুক্ত করা হবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সারা দেশে আনুমানিক ৪ কোটি ৪৫ লাখ পরিবারের তথ্য সংগ্রহ ও ডেটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি পাঁচজন সদস্যকে একটি পরিবার হিসেবে বিবেচনায় নেওয়া হবে।

৪০ লাখ নারী পরিবারপ্রধানকে ভাতা দেওয়ার লক্ষ্য

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে প্রক্সি মিন টেস্ট (পিএমটি) পদ্ধতি ব্যবহার করে যোগ্য উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে। চলতি অর্থবছরে নতুন করে ৪০ লাখ নারী পরিবারপ্রধানকে ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা-২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হালনাগাদ প্রক্সি মিন টেস্ট পদ্ধতিতে দেশের পরিবারগুলোকে আর্থসামাজিক অবস্থার ভিত্তিতে পাঁচটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। শ্রেণিগুলো হলো—অতিদরিদ্র, দরিদ্র, ঝুঁকিপূর্ণ নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত।

নীতিমালা অনুযায়ী, নারী পরিবারপ্রধানদের ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ভাতা পাবেন পিএমটি স্কোর অনুযায়ী প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণিভুক্ত অর্থাৎ তুলনামূলক কম স্কোর পাওয়া পরিবারের নারী প্রধানেরা।

কেসিসি ও শহর সমাজসেবা কার্যালয়-১, ২ ও ৩ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, সচিব মো. রেজা রশিদ, বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালক অনিন্দিতা রায়, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

একটি মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/modhumot/public_html/wp-includes/functions.php on line 5581