খুলনা প্রতিনিধি
খুলনা নগরীর খানজাহান আলী রোডে অবস্থিত ‘খুলনা খাদ্য পরিবহন সড়কপথ পরিবহন ঠিকাদার সমিতি’র কার্যালয়কে ব্যবহার করে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গোপন রাজনৈতিক বৈঠক ও কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কার্যালয় ও কয়েকজন ব্যক্তির ওপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের অনেক নেতাকর্মী আত্মগোপনে যাওয়ার পর ওই কার্যালয়ে দলটির কয়েকজন নেতা নিয়মিত বৈঠক করতেন। তাঁদের মধ্যে ‘শেখ বাড়ির ক্যাশিয়ার’ হিসেবে পরিচিত হাফিজুর রহমান, ২৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অহিদুল ইসলাম এবং সাবেক মেয়র তালুকদার আবদুল খালেকের ভাগ্নে সেলিম রেজার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া জেলা ও নগর আওয়ামী লীগের আরও কয়েকজন নেতার সেখানে যাতায়াতের অভিযোগ রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ পাওয়া না যাওয়ায় অভিযোগগুলোর সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
গোয়েন্দা নজরদারির দাবি
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক দায়িত্বশীল গোয়েন্দা কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, একটি নিবন্ধিত বাণিজ্য সংগঠনের কার্যালয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কার্যালয়টিতে কারা যাতায়াত করেছেন এবং বর্তমানে কারা সেখানে যোগাযোগ রাখছেন, তা জানতে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
ওই কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, সিসিটিভি ফুটেজ ও গোয়েন্দা তথ্য পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
প্রতিবাদলিপি প্রকাশ নিয়ে আলোচনা
এদিকে, এ ঘটনায় সংবাদ প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট পক্ষ স্থানীয় একটি পত্রিকায় প্রতিবাদলিপি প্রকাশ করেছে বলে জানা গেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রতিবাদলিপির মাধ্যমে মূল ঘটনা আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রতিবাদলিপিতে পত্রিকার নামের বানানেও ভুল ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
তবে প্রতিবাদলিপিতে কী বলা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য কী—তা বিস্তারিতভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
তদন্তের দাবি স্থানীয়দের
স্থানীয় কয়েকজন সচেতন নাগরিক ও ব্যবসায়ীর দাবি, কোনো বাণিজ্য সংগঠনের কার্যালয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের অভিযোগ থাকলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা উচিত। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য প্রকাশেরও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সমিতির দায়িত্বশীল ব্যক্তি, অভিযুক্ত ব্যক্তিবর্গ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।

