স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা
আগামী ৩১ অক্টোবরের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চকে সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াই হিসেবে অভিহিত করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমীর মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের মানুষ অন্যায়, বৈষম্য ও অধিকার হরণের বিরুদ্ধে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। লংমার্চের মাধ্যমে গণমানুষের দাবি দেশের প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে দিতে হবে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে খুলনার ডাকবাংলো মোড়ে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে লংমার্চ সফল করতে লিফলেট বিতরণকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহফুজুর রহমান বলেন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সারের সংকট নিরসন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারত্বের অবসানের দাবিতে তাঁরা রাজপথে নেমেছেন। এসব দাবি শুধু ১১ দলীয় ঐক্যের নয়, বরং দেশের বঞ্চিত মানুষের প্রত্যাশার প্রতিফলন।
তিনি বলেন, আগামী ৩১ অক্টোবর শনিবারের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ সফল করার মধ্য দিয়ে দাবি আদায়ের আন্দোলনকে আরও জোরদার করতে হবে। দলমত-নির্বিশেষে সবার কাছে লিফলেট পৌঁছে দিতে হবে। নারী, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, শ্রমিক, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ সর্বস্তরের মানুষকে বাবরী চত্বরের (শিববাড়ি) পথসভা ও লংমার্চে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধের দাবি
সমাজ থেকে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারত্বের সংস্কৃতি দূর করার আহ্বান জানিয়ে মাহফুজুর রহমান বলেন, এসব অনিয়ম সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ও ব্যবসায়িক পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করছে। দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে না পারলে দেশের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়।
গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের মতামত ও ভোটাধিকারকে সম্মান জানাতে হবে। গণভোটে উঠে আসা জনমত অবিলম্বে বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের ক্ষমতা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দিতে হবে।
জুলাই গণহত্যার বিচারের দাবি
জুলাই মাসে ছাত্র-জনতার ওপর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে জামায়াতের এই নেতা বলেন, হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ব্যক্তি এবং এর পেছনে নির্দেশদাতাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
জ্বালানি সংকট ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের আহ্বান
বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সারের সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মাহফুজুর রহমান বলেন, জ্বালানি ও বিদ্যুতের সংকটে শিল্পকারখানা ও উৎপাদন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অন্যদিকে কৃষকেরা সেচকাজ ও ফসল উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সার ও জ্বালানি সময়মতো পাচ্ছেন না। এসব সংকট দ্রুত সমাধান করা জরুরি।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাজার সিন্ডিকেটের কারণে চাল, ডাল, তেলসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। নিম্ন আয়ের মানুষ সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে। বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির দাবি
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, নাগরিকের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। ছিনতাই, রাহাজানি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হচ্ছে। এ পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি ঘটিয়ে নাগরিকের মৌলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
প্রশাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয়করণ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে মাহফুজুর রহমান বলেন, অতীতে দলীয় স্বার্থে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ব্যবহারের ফলে মেধা ও যোগ্যতার যথাযথ মূল্যায়ন ব্যাহত হয়েছে। এ সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে সমঅধিকার ও মেধার ভিত্তিতে প্রশাসন পুনর্গঠন করতে হবে।
লিফলেট বিতরণে বিভিন্ন দলের নেতারা
১১ দলীয় ঐক্য খুলনা মহানগরীর সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট শাহ আলমের পরিচালনায় লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের খুলনা মহানগর সভাপতি মুফতি শরীফ সাঈদুর রহমান, লেবার পার্টির মহানগর সভাপতি অধ্যক্ষ মো. সাইফুদ্দোহা, বিডিপির মহানগর সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. হানিফ উদ্দীন, এনসিপির খুলনা মহানগর যুগ্ম আহ্বায়ক শরীফ বদরুদ্দোজা ও সাংগঠনিক সম্পাদক শামসুল আরেফিন।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন লেবার পার্টির মহানগর সাধারণ সম্পাদক সোহেল হাওলাদার, খুলনা জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা কবিরুল ইসলাম, মহানগরী জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আজিজুল ইসলাম ফারাজী ও শেখ মো. অলিউল্লাহ, প্রচার সেক্রেটারি মুহাম্মাদ আব্দুল গফুর, খেলাফত আন্দোলন খুলনা মহানগরের মুখপাত্র মো. সাকিব বিল্লাহ, মহানগরী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি ইসরাফিল হোসেনসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

