রাজনীতি ডেস্ক:
বাংলাদেশে এক কোটির বেশি তরুণ-তরুণী মাদকাসক্ত বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা। তিনি বলেন, সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকা দিয়ে ইয়াবা, ফেনসিডিলসহ নানা ধরনের মাদক দেশে প্রবেশ করছে। মাদকের বিস্তার একটি জাতিকে পিছিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজবাড়ী কনভেনশন সেন্টারে এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সিবগাতুল্লাহ সিবগা বলেন, ২০২৪ সালে আবু সাঈদসহ অসংখ্য মানুষের রক্তের বিনিময়ে পরিবর্তনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরও বিভিন্নভাবে মেধাবীদের থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন জেলা দিয়ে নানা ধরনের মাদক দেশে প্রবেশ করছে। ইয়াবা, ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন মাদকের বিস্তার তরুণ সমাজের একটি অংশকে বিপথে ঠেলে দিচ্ছে। এটি দেশের জন্য বড় সংকট।
মেধাবীদের মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে শিবিরের এই নেতা বলেন, একটি সমাজ তখনই এগিয়ে যায়, যখন মেধাবীদের যথাযথ মূল্যায়ন করে তাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে মেধাবীদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হচ্ছে না।
তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, শুধু ভালো ফলাফল করলেই জীবনে সফল হওয়া যায় না। জীবনের প্রতিটি ধাপে নানা ধরনের প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হবে। তাই জিপিএ-৫ পাওয়াকে চূড়ান্ত অর্জন মনে না করে পড়াশোনার পাশাপাশি দক্ষতা অর্জনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।
সিবগাতুল্লাহ বলেন, এ বছর এক লাখ ১৬ হাজার শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। তবে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়সহ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর আসনসংখ্যা এর তুলনায় কম। ফলে জিপিএ-৫ পাওয়া সব শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পাবে না। আবার জিপিএ-৫ না পেয়েও অনেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাবে। তাই জীবনের প্রতিটি ধাপের নতুন পরীক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত থাকতে হবে।
বাংলাদেশের তরুণদের সৃজনশীলতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, বিভিন্ন বিজ্ঞান উৎসব ও উদ্ভাবনী কার্যক্রমে তরুণদের অংশগ্রহণ তাদের মেধা ও সৃজনশীলতার পরিচয় দেয়। তরুণদের এই সম্ভাবনাকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যাবে।
সরকারি প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি ও ঘুষের অভিযোগের প্রসঙ্গে সিবগাতুল্লাহ বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানে সেবা নিতে গিয়ে মানুষকে ঘুষ ও দুর্নীতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে—এমন অভিযোগ রয়েছে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার মানসিকতা তরুণদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, শুধু মেধাবী হলেই হবে না; শিক্ষার্থীদের সৎ ও দেশপ্রেমিক হতে হবে। সৎ, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক নাগরিক তৈরি করাই লক্ষ্য। মেধার সঙ্গে সততা ও নৈতিকতার সমন্বয় ঘটাতে হবে।

