রাজনীতি ডেস্ক:
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মারকে ২০২৫ সালে ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ‘সাথী’ পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তাঁর পদ স্থগিত ও পরবর্তীতে বাতিলের বিষয়ে সংগঠনটির বিভিন্ন সময়ের তিনটি চিঠি সামনে এসেছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) চিঠিগুলো প্রকাশ্যে আসে।
প্রকাশিত চিঠিগুলোর মধ্যে প্রথমটি ২০২৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারির। তৎকালীন রাবি শিবির সভাপতি মুস্তাকুর রহমান জাহিদের স্বাক্ষর করা ওই চিঠিতে সালাউদ্দিন আম্মারের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজশাহী মহানগর ও জেলা কমিটিতে অর্থের বিনিময়ে পদ বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠার কথা উল্লেখ করা হয়। একই চিঠিতে তাঁর বিরুদ্ধে নৈতিক পদস্খলনের কয়েকটি অভিযোগ পাওয়ার কথাও বলা হয়।
চিঠিতে বলা হয়, ২০২৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি শাখা শিবিরের মাসিক সেক্রেটারিয়েট সভায় এসব অভিযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। পরে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে আম্মারের ‘সাথী’ পদ স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে পরবর্তী সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
এরপর ২০২৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের আরেকটি চিঠিতে বলা হয়, দীর্ঘদিন সাংগঠনিক শৃঙ্খলাবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা এবং একাধিকবার সংশোধনের সুযোগ দেওয়ার পরও পরিবর্তন না আসায় আম্মারের ‘সাথী’ পদ বাতিল করা হয়েছে।
২০২৬ সালের ৩১ জুলাই রাবি শিবিরের বর্তমান সভাপতি মুজাহিদ ফয়সালের স্বাক্ষর করা আরেকটি চিঠিতেও আগের সিদ্ধান্তগুলোর উল্লেখ রয়েছে। এতে আম্মারের বিরুদ্ধে নৈতিক পদস্খলন, মৌলিক ইবাদত পালনে উদাসীনতা, নারীদের সঙ্গে অবাধ বিচরণ, অবৈধ অর্থনৈতিক লেনদেন ও সম্পদ তছরুপ এবং সংগঠনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগের কথা বলা হয়।
চিঠিতে আরও দাবি করা হয়, এসব অভিযোগের যথাযথ জবাব দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তাঁর ‘সাথী’ পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে তাঁর কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করা হয়।
তবে শিবিরের চিঠিতে উত্থাপিত এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
চিঠিগুলোর সত্যতা সম্পর্কে জানতে চাইলে রাবি শিবিরের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেন, চিঠিগুলো সত্য। তিনি জানান, ২০২৫ সালেই সালাউদ্দিন আম্মারকে ইসলামী ছাত্রশিবির থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।

