রাঙামাটি প্রতিনিধি
রাঙামাটির সাজেক সড়কে অচলাবস্থা নিরসনে দুই সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হলেও সংকটের সমাধান হয়নি। পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) সশস্ত্র সদস্যদের সংশ্লিষ্ট এলাকা থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবিতে অনড় রয়েছেন আন্দোলনকারীরা। এ অবস্থায় অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা।
সোমবার রাতে ফেসবুক লাইভে এসে তিনি অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে পর্যটকদের সাজেক ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করেন তিনি।
অন্যদিকে, খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ওয়াদুদ ভূঁইয়া জানিয়েছেন, আন্দোলনকারীদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে চারটি পূরণে সরকার ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। বাকি দাবিটি নিয়েও আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সোমবার বিকেলে সাজেক সড়কের উজোবাজার এলাকায় আন্দোলনকারীদের দাবিদাওয়া নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা হয়। তবে সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট আশ্বাস না পাওয়ায় বৈঠকের পরও অচলাবস্থা কাটেনি।
সার্কিট হাউসে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে ওয়াদুদ ভূঁইয়া সরকারের ইতিবাচক অবস্থানের কথা তুলে ধরলেও আন্দোলনকারীরা তাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করেননি।
টানা পাঁচ দিন ধরে সাজেক সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় পর্যটন খাতে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের যাতায়াত ও যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। সড়ক অবরোধের কারণে পর্যটকসহ সাধারণ মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন।
উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ওয়াদুদ ভূঁইয়া ও রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান ছাড়াও খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং গঠিত কমিটির অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমার নেতৃত্বে আন্দোলনকারীদের একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেয়।
এর আগে দুই সংসদ সদস্য এবং খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার সাজেক সড়কের উজোবাজার এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। সংকট নিরসনে উচ্চপর্যায়ের এই উদ্যোগ নেওয়া হলেও আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি নিয়ে সমাধান না আসায় পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি।

