গাজীপুর প্রতিনিধি:
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দুটি কলোনির ২৩টি বসতঘর ও পাঁচটি দোকান পুড়ে গেছে। এতে কলোনির বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের আসবাবপত্র, মালামালসহ বিপুল পরিমাণ সম্পদের ক্ষতি হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোররাতে উপজেলার হরিণহাটি এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, ভোররাতে হরিণহাটি এলাকার রাসেলের কলোনিতে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন আশপাশের বসতঘর ও দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। পরে আগুনের তীব্রতা বেড়ে পাশের আরেকটি কলোনিতেও ছড়িয়ে যায়।
আগুনের খবর ছড়িয়ে পড়লে মুন্ডল মার্কেট এবং আমিনুল ইসলাম ও রাসেল আহমেদের কলোনির বাসিন্দারা আতঙ্কে ঘর থেকে বের হয়ে আসেন। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় অনেকেই ঘরের প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ও মালামাল সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাননি।
স্থানীয় লোকজন প্রথমে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। পরে খবর পেয়ে কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক তথ্যমতে, অগ্নিকাণ্ডে দুটি কলোনির ২৩টি বসতঘর ও পাঁচটি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।
ক্ষতিগ্রস্ত কলোনির মালিক রাসেল বলেন, তাঁর কলোনির ঘরগুলো পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ভাড়াটিয়াদের মূল্যবান আসবাবপত্র ও দোকানগুলোর মালামালও পুড়ে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং তাঁদের তাৎক্ষণিক খাদ্যসামগ্রী ও আর্থিক সহায়তা দেন।
কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা ইফতেখার হোসেন রায়হান চৌধুরী বলেন, আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট নাকি অন্য কোনো কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে।

