ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:
দীর্ঘ কর্মজীবনের শেষ দিনে অশ্রুসিক্ত নয়নে প্রিয় কর্মস্থল থেকে বিদায় নিলেন ফরিদপুরের ভাঙ্গা সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের দুই প্রবীণ শিক্ষক। তাঁদের বিদায় জানাতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আয়োজন করে ব্যতিক্রমী সংবর্ধনার। লালগালিচা অভ্যর্থনা, ফুলেল শুভেচ্ছা ও সুসজ্জিত ঘোড়ার গাড়িতে করে তাঁদের নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক দিলীপ কুমার বিশ্বাস ও মজিবর রহমান খানের অবসরজনিত বিদায় উপলক্ষে বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে এ সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হায়দার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ভাঙ্গা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোক্তার হোসেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন শিক্ষক ফাইজুর রহমান। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বিদায়ী দুই শিক্ষককে লালগালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। পরে তাঁদের দীর্ঘ কর্মজীবন ও শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অবদানের কথা তুলে ধরে স্মৃতিচারণ করেন সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও অতিথিরা।
নিজেদের কর্মজীবনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন দুই শিক্ষক। মজিবর রহমান খান বলেন, ‘আমরা শুধু শ্রেণিকক্ষে পাঠদানই করিনি, বরং দীর্ঘ সময় ধরে জ্ঞান ও নিষ্ঠার মাধ্যমে হাজারো শিক্ষার্থীর জীবন গড়ার কারিগর হিসেবে কাজ করার চেষ্টা করেছি। আমাদের ভালোবাসায় গড়ে ওঠা শিক্ষার্থীরা জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এটাই আমাদের সাফল্য।’
দিলীপ কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘আজ অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি। জীবনের সেরা সময় এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাটিয়েছি। পাঠদানকালে ভুল হলে শিক্ষার্থীদের শাসন করেছি, আবার ভালোও বেসেছি। প্রিয় কর্মস্থল ছেড়ে যেতে যে কী কষ্ট, তা যারা বিদায় নেন তারাই জানেন।’
সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দুজনের জন্য সবাই মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করবেন, যেন আমরা সুস্থ থাকি, ভালো থাকি।’ এ কথা বলার সময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হায়দার হোসেন বলেন, ‘আমরা এ প্রতিষ্ঠানের প্রবীণ ও গুণী দুজন শিক্ষককে আজ বিদায় সংবর্ধনা জানালাম। তাঁদের হাতে সম্মাননা স্মারক, মানপত্র ও বিভিন্ন উপহার তুলে দেওয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, শিক্ষকদের বিদায়বেলাকে স্মরণীয় করে রাখতে বিশেষভাবে সাজানো ঘোড়ার গাড়ির ব্যবস্থা করা হয়। ফুল ছিটিয়ে তাঁদের রাজকীয় বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়। পরে সুসজ্জিত ঘোড়ার গাড়িতে করে মর্যাদার সঙ্গে তাঁদের নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

