নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ঢাকা ছেড়ে খুলনার খানজাহান আলী থানার গিলাতলা দক্ষিণপাড়ায় অবস্থান করে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে ঢাকা মহানগরের ভাটারা থানা শ্রমিক লীগের নেতা হিসেবে পরিচিত জিয়াউল হক জিয়া ও তাঁর স্ত্রী রোজিনা সুলতানার বিরুদ্ধে। রোজিনা সুলতানা মহিলা লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে পরিচিত বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।
অভিযোগকারীদের দাবি, এলাকায় মাদকবিরোধী তৎপরতায় যুক্ত বিএনপির নেতাকর্মীদের হয়রানি, দলটির অভ্যন্তরে বিভেদ সৃষ্টি এবং রাজনৈতিকভাবে বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছেন তাঁরা। পাশাপাশি স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা করার অভিযোগও তোলা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।
মাদকবিরোধী তৎপরতা ঘিরে বিরোধ
স্থানীয় সূত্রের দাবি, খুলনার খানজাহান আলী থানার গিলাতলা দক্ষিণপাড়ায় মাদকবিরোধী তৎপরতা জোরদার হওয়ার পর আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, মাদকবিরোধী অবস্থানের কারণে কয়েকজন বিএনপি নেতাকর্মীকে বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। মাদকসংক্রান্ত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর পেছনে কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের অভিযোগ
অভিযোগকারীদের দাবি, ‘জিয়াগং’ নামে পরিচিত একটি গোষ্ঠী বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি এবং তাঁদের বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। এ কর্মকাণ্ডের পেছনে জিয়াউল হক জিয়া ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের ভূমিকা রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা।
তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথিত যোগাযোগ এবং মামলাগুলোর পেছনে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে কি না—এসব বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।
আদালতে নালিশি মামলা
এদিকে, খুলনার খানজাহান আলী থানার শিরোমণি ও গিলাতলা এলাকায় অর্থ আত্মসাৎ, প্রতারণা, হুমকি ও চাঁদা দাবির অভিযোগে জিয়াউল হক জিয়া, তাঁর স্ত্রী রোজিনা সুলতানাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে আদালতে একটি নালিশি মামলা করা হয়েছে। মামলাটির নম্বর সি.আর. ৬০৯/২০২৫।
তবে মামলার অভিযোগ, আদালতের আদেশ কিংবা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া না যাওয়ায় মামলার বর্তমান অবস্থা ও অভিযোগগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগকারীরা প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সঙ্গে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শনাক্ত করা এবং কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে জিয়াউল হক জিয়া, রোজিনা সুলতানা এবং সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে এবং মামলার নথি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য যাচাই করা সম্ভব হলে প্রতিবেদনে তা যুক্ত করা হবে।

