খুলনা প্রতিনিধি
খুলনা নগরীর খানজাহান আলী রোডের ৩০৪ নম্বর ঠিকানায় অবস্থিত খুলনা খাদ্য পরিবহন সড়কপথ পরিবহন ঠিকাদার সমিতির কার্যালয়কে ঘিরে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে কার্যালয়টিতে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের পলাতক ও আত্মগোপনে থাকা নেতাকর্মীদের যাতায়াত এবং গোপন বৈঠক হচ্ছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় কয়েকটি সূত্র।
সমিতিটির নিবন্ধন নম্বর কে এল এন–৯৩৬। অভিযোগ রয়েছে, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের আড়ালে কার্যালয়টিকে রাজনৈতিক যোগাযোগ ও সাংগঠনিক তৎপরতার বিকল্প কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে অভিযোগে বলা হয়েছে, কার্যালয়টিকে ঘিরে যাঁর নাম উঠে এসেছে, তিনি হলেন খুলনা মহানগরীর ২৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এবং সাতক্ষীরার খাজরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে পরিচিত আলহাজ অহিদুল ইসলাম। সাধারণ ব্যবসায়িক কার্যক্রমের আড়ালে তিনি ও তাঁর সহযোগীরা দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
এ ছাড়া কার্যালয়টিতে নিয়মিত যাতায়াত ও বৈঠকে অংশ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ‘শেখ বাড়ির ক্যাশিয়ার’ হিসেবে পরিচিত হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে। খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেকের ভাগ্নে হিসেবে পরিচয় দেওয়া মোহাম্মদ সেলিম ওরফে সেলিম রেজার নামও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও যাঁদের নাম এসেছে, তাঁরা হলেন খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মোস্তফা কামাল খোকন, খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক মাকসুদ আলম খাজা, ৩১ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সহসাধারণ সম্পাদক নুরে আলম সিদ্দিকী, ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলতাফ হোসেন, দৌলতপুর থানা যুবলীগের সাবেক নেতা রিপন হাওলাদার, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আবুল কাশেম।
স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, দিনের বেলায় কার্যালয়টিতে সমিতির স্বাভাবিক কার্যক্রম চললেও সন্ধ্যার পর পেছনের অংশে রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়। এসব বৈঠকে আত্মগোপনে থাকা নেতাকর্মীদের আইনি ও আর্থিক সহায়তার বিষয়ে আলোচনা এবং সাংগঠনিক যোগাযোগের পরিকল্পনা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে বৈঠকগুলোর বিষয়বস্তু ও সেখানে কারা অংশ নেন, সে বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে একটি নিবন্ধিত ব্যবসায়িক সংগঠনের কার্যালয়কে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের অভিযোগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক সচেতন মহলের কয়েকজন। তাঁদের মতে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা জরুরি। কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের কার্যালয়ে বেআইনি কর্মকাণ্ড পরিচালিত হলে তা প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সমিতির কর্তৃপক্ষ, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এই প্রতিবেদনের জন্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় নাগরিকদের পক্ষ থেকে বিষয়টি তদন্ত করে দেখার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে নজরদারি জোরদারের দাবি জানানো হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রকৃত পরিস্থিতি প্রকাশ এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

