গাজীপুর প্রতিনিধি:
গাজীপুরকে শব্দদূষণমুক্ত, শান্তিপূর্ণ ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। এর অংশ হিসেবে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে জেলার ১ হাজার ৫০০ যানবাহন থেকে অবৈধ হাইড্রোলিক হর্ন অপসারণের ঘোষণা দিয়েছেন পরিবহণ মালিকরা।
মঙ্গলবার দুপুরে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ভাওয়াল সম্মেলন কক্ষে যানবাহন মালিক, গণপরিবহণের চালক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসনের ‘শব্দদূষণহীন গাজীপুর, শান্তিময় জীবন’ শীর্ষক ১৫ সপ্তাহব্যাপী কর্মপরিকল্পনার অষ্টম সপ্তাহের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় শব্দদূষণ কমানোর বিভিন্ন সমস্যা ও করণীয় নিয়ে পরিবহণ মালিক, চালক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে উন্মুক্ত আলোচনা হয়। এ সময় তারা সড়কে অটোরিকশার আধিক্য, ফুটপাতের বাজার এবং সাধারণ মানুষের অসচেতনতাকে অতিরিক্ত হর্ন বাজানোর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসনের নেওয়া উদ্যোগ বাস্তবায়নে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন তারা।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া বলেন, ‘আমরা গাজীপুরকে শান্তির গাজীপুর করতে চাই। শব্দদূষণমুক্ত রাখতে চাই এবং যানবাহনের হর্নের যন্ত্রণা থেকে মানুষকে মুক্ত রাখতে চাই। পুরোপুরি শব্দমুক্ত রাখা সম্ভব না হলেও নিয়মের মধ্যে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘হর্ন বাজানো উচিত কেবল নিজেকে বিপদমুক্ত রাখার জন্য, অন্যকে বিপদে ফেলার জন্য নয়।’
শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের গুরুত্ব তুলে ধরে জেলা প্রশাসক বলেন, তিনি নিজে কোনো হর্ন না বাজিয়ে ৩২ কিলোমিটার পথ গাড়ি চালিয়ে সভায় এসেছেন।
সভায় পরিবহণ মালিকরা আগামী ১৫ দিনের মধ্যে জেলার ১ হাজার ৫০০ যানবাহন থেকে অবৈধ হাইড্রোলিক হর্ন নিজ দায়িত্বে অপসারণের ঘোষণা দেন। জেলা প্রশাসক এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে শব্দদূষণ কমাতে পরিবহণ মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সভায় আরও বক্তব্য দেন গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, গাজীপুর মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের উপকমিশনার এসএম আশরাফুল আলম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শাহরিয়ার নজির, জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি মোশাররফ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক, গাজীপুর পরিবহণ মালিক সমিতির সদস্য ফরিদ হোসেন এবং পথের সাথী পরিবহণের চেয়ারম্যান জুনায়েদ হোসেন লিয়নসহ অন্যরা।
সভা শেষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন যানবাহনে শব্দদূষণবিরোধী ও সচেতনতামূলক স্টিকার লাগানো হয়।

