সিলেট ব্যুরো:
সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনতা থেকে মুক্ত করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) অধিভুক্ত করার দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন তৃতীয় দিনে গড়িয়েছে। টানা প্রায় ৩৩ ঘণ্টা প্রশাসনিক ভবনে অবরুদ্ধ থাকার পর অধ্যক্ষসহ শিক্ষক-কর্মকর্তাদের সেখান থেকে বের হতে দেওয়া হলেও তাদের ক্যাম্পাস ছাড়তে দিচ্ছেন না আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অধ্যক্ষসহ শিক্ষক-কর্মকর্তাদের কেউ ক্যাম্পাসের বাইরে যেতে পারবেন না। একই সঙ্গে দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কলেজের সব একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, প্রশাসনিক ভবন থেকে বের হওয়ার পর অধ্যক্ষসহ শিক্ষকরা ক্যাম্পাসেই অবস্থান করছেন। বাইরে যেতে না পারায় কলেজের দোতলায় তারা দফায় দফায় বৈঠক করছেন। অন্যদিকে দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।
গত রোববার থেকে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনতা থেকে কলেজকে মুক্ত করে শাবিপ্রবির অধিভুক্ত করা অথবা কলেজকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের দাবিতে প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়ে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন তারা। এতে অধ্যক্ষসহ ১৪ শিক্ষক এবং ৬ থেকে ৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী অবরুদ্ধ হন।
সোমবার রাতে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার পর অবরুদ্ধ শিক্ষক-কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক ভবন থেকে বের হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। তবে তাদের ক্যাম্পাস ছাড়তে দেননি শিক্ষার্থীরা। এর আগে সোমবার রাতে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী ও জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করেন। তবে ওই আলোচনায় অচলাবস্থার কোনো সমাধান হয়নি।
মঙ্গলবার দুপুরে ক্যাম্পাসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দুই মুখপাত্র ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের শিক্ষার্থী তানভীর আহমদ ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ফাহাদ ফয়সাল বক্তব্য দেন।
তারা বলেন, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনতা থেকে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে মুক্ত করে শাবিপ্রবির অধিভুক্ত করা অথবা কলেজটিকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত সব একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। প্রশাসনিক রদবদল বা বদলির আদেশও তারা প্রত্যাখ্যান করেন।
শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষক-কর্মকর্তাদের ক্যাম্পাসের বাইরে যেতে দেওয়া হবে না।
কলেজের দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সহযোগী অধ্যাপক মো. আসাদুজ্জামান বলেন, স্থানীয় প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা হলেও কোনো সমাধান হয়নি। শিক্ষার্থীরা মূল ফটকে তালা দিয়ে রাখায় প্রশাসনিক কার্যক্রম অচল হয়ে আছে। শিক্ষক-কর্মকর্তারা এখনো ক্যাম্পাসে অবস্থান করছেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে থাকায় সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রির স্বকীয়তা ও পেশাগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ কারণে কলেজটিকে অধিদপ্তরের অধীনতা থেকে মুক্ত করে শাবিপ্রবির অধীনে নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন তারা। এ দাবিতে তারা ক্লাস বর্জন, অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন।
এ ছাড়া সান্ধ্যকালীন কোর্সে বিএসসি সম্পন্ন করা এবং গবেষণার অভিজ্ঞতা না থাকা একজন শিক্ষককে সহযোগী অধ্যাপক পদে পদায়নেরও প্রতিবাদ করছেন শিক্ষার্থীরা।

