কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরনের কলঙ্ক বিএনপি নেবে না।
বুধবার কুড়িগ্রামে এক দিনের সফরের শুরুতে সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি জনগণের সরকার। আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার জন্য যা প্রয়োজন, তাই করা হবে। প্রধানমন্ত্রীরও এ বিষয়ে নির্দেশনা রয়েছে। নির্বাচন নিয়ে কোনো কলঙ্ক বিএনপি নেবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘সমস্ত নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার জন্য মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে যা যা করা প্রয়োজন, তা করা হবে। নির্বাচন কমিশনকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।’
মীর শাহে আলম বলেন, ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো শুরু হওয়ার কথা রয়েছে এবং ৬ জুনের মধ্যে এসব নির্বাচন শেষ হবে। যারা নির্বাচনে অংশ নিতে চান, তারা এখন থেকেই মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিতে পারেন। স্থানীয় প্রশাসনকে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।
বিরোধী দলের সমালোচনা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্রে বিরোধী দল যেকোনো বিষয়ে সরকারের ওপর দায় চাপাবে—এটাই স্বাভাবিক। অভিযোগ সঠিক হোক বা বেঠিক হোক, বিরোধী দলের দায়িত্ব হলো সরকারের ব্যর্থতা তুলে ধরা। সরকার কোথায় ব্যর্থ হয়েছে, তা জনগণই বিবেচনা করবেন।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরকার অত্যন্ত সচেতন। বিষয়গুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
কুড়িগ্রামে সার সংকট প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের যেসব এলাকায় বিএনপির সদস্যরা নির্বাচিত হয়েছেন, সেসব এলাকায় সার সংকট নিয়ে কোনো আন্দোলন হয়নি। তাঁর দাবি, কুড়িগ্রাম জেলার চারটি আসনের মধ্যে তিনটিতে জামায়াত ও একটিতে এনসিপির সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় সেখানে বিএনপিকে জনগণের কাছে বিভ্রান্ত ও হেয় করতে পরিকল্পিতভাবে সার সংকট নিয়ে আন্দোলন করা হয়েছে।
জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট মোকাবিলায় সরকারের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে সংকট কিছুটা কেটে গেছে। তবে গ্যাস ও বিদ্যুতের সমস্যার পূর্ণাঙ্গ সমাধানের জন্য আরও কিছু সময় প্রয়োজন।
এর আগে কুড়িগ্রাম সার্কিট হাউসে পৌঁছালে প্রতিমন্ত্রীকে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।
এ সময় রংপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও রংপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহামুদল হক চৌধুরী ডন, লালমনিরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক মমিনুল, কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, সদস্যসচিব ও জেলা পরিষদ প্রশাসক আলহাজ সোহেল হোসাইন কায়কোবাদ, যুগ্ম আহ্বায়ক হাসিবুর রহমান হাসিব, ড্যাবের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ডা. ইউনুস আলী ও সাবেক পৌর মেয়র আবু বকর সিদ্দিকসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুবার রহমান, সদস্যসচিব আবু হানিফ বিপ্লব, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর বিপ্লব, যুবদল নেতা নাসিম পারভেজ তারা, নাদিম আহমেদ, এটিএম নজিবর রহমান লেলিন, মাসুদ রানা বাবু, হাসান যুবায়ের হিমেল, আমিমুল এহসান, ছাত্রদল সভাপতি আশরাফুল হক বিপুল, সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা, জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি রেশমা সুলতানা ও সাধারণ সম্পাদক মোসলেমা খাতুন মিলিসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

