রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬ যোগাযোগ আমাদের পরিচয়
English
সর্বশেষ খুলনাকে পরিচ্ছন্ন, যানজট ও দখলমুক্ত নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই: নজরুল ইসলাম মঞ্জু ● খুলনার লবণচরায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে যুবক নিহত ● প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে স্থাপিত তোরণ-ব্যানার অপসারণের নির্দেশ খুলনা বিএনপির ● টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে এক ধাপ পিছিয়ে বাংলাদেশ ● যেকোনো হুমকির জবাবে তাৎক্ষণিক পাল্টা আঘাতের নির্দেশ খামেনির
জাতীয়

দুর্গাপূজায় নিরাপত্তায় গাফিলতি বরদাশত করা হবে না: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

ন্যাশনাল ডেস্ক:

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্‌যাপন নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেছেন, পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় কোনো ধরনের গাফিলতি বরদাশত করা হবে না। অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো ঘটনা ঘটলে তদন্তসাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রোববার ঢাকা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষে ঢাকা জেলা ও মহানগর এলাকার পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ঢাকা জেলার আইনশৃঙ্খলা ও অন্যান্য উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। দেশের মানুষ পরস্পরের ধর্মীয় উৎসবে অংশ নিয়ে সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় করে আসছে। এই সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন রাখতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, প্রধানমন্ত্রী সবসময় বলেন, বাংলাদেশে সংখ্যাগুরু ও সংখ্যালঘু হিসেবে বিভাজনের কোনো সুযোগ নেই—আমরা সবাই বাংলাদেশি। দেশপ্রেম ধারণ করে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় কাজ করতে হবে। এ জন্য প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার এবং মহানগর এলাকায় ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার ও পুলিশের মহাপরিদর্শকের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও সক্রিয়ভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে। পূজা শুরুর আগে সংশ্লিষ্ট এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রস্তুতি ও মহড়া জোরদার করতে হবে। বিশেষ করে ভোররাতে নিরাপত্তা ও পাহারা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

পূজা উদ্‌যাপন কমিটিগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিজ নিজ মন্দির ও পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় সংশ্লিষ্ট কমিটিকে প্রধান দায়িত্ব পালন করতে হবে। প্রতিটি মন্দিরে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের ব্যবস্থা করতে হবে। নিরাপত্তা ঝুঁকি বা কোনো সমস্যা দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনকে জানাতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেওয়া হবে।

পূজামণ্ডপে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নারী ও পুরুষের চলাচল ব্যবস্থাপনায় পৃথক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশ এবং নিরাপত্তার দায়িত্বে আনসার সদস্যদের সার্বক্ষণিকভাবে নিয়োজিত রাখার ব্যবস্থা থাকবে।

বিসর্জন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, স্থানীয় প্রশাসন ও পূজা উদ্‌যাপন কমিটিকে সমন্বিতভাবে কাজ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিসর্জন সম্পন্ন করতে হবে। বিসর্জনকে কেন্দ্র করে মাদক সেবনসহ কোনো ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা জেলা প্রশাসক মিজ্‌ ফরিদা খানম। এতে বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, সংরক্ষিত মহিলা আসন-১১-এর সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী, ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেন এবং ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন।

সভায় প্রশাসনের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরা এবং বিভিন্ন পূজা উদ্‌যাপন কমিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

একটি মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/modhumot/public_html/wp-includes/functions.php on line 5581