রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬ যোগাযোগ আমাদের পরিচয়
English
সর্বশেষ খুলনাকে পরিচ্ছন্ন, যানজট ও দখলমুক্ত নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই: নজরুল ইসলাম মঞ্জু ● খুলনার লবণচরায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে যুবক নিহত ● প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে স্থাপিত তোরণ-ব্যানার অপসারণের নির্দেশ খুলনা বিএনপির ● টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে এক ধাপ পিছিয়ে বাংলাদেশ ● যেকোনো হুমকির জবাবে তাৎক্ষণিক পাল্টা আঘাতের নির্দেশ খামেনির
জাতীয়

দুপুর ২টায় প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেবেন ইশরাক

ন্যাশনাল ডেস্ক:

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দিতে যাচ্ছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। সোমবার দুপুর ২টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এ ঘোষণা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান ইশরাক। এর আগে রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় আগ্নেয়াস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়ার ঘটনায় তাকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলে সরকারসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

ফেসবুক পোস্টে ইশরাক লেখেন, সোমবার দুপুর ২টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সামনে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা দেবেন তিনি।

পোস্টে তিনি আরও লেখেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু মানুষের উল্লাসসূচক মন্তব্য দেখেছেন। ভবিষ্যতে আন্দোলন-সংগ্রামের প্রয়োজন হলে তারা যেন জাতীয়তাবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিদেশ থেকে দেশে ফিরে তাতে অংশ নেন, সেই প্রত্যাশা করেন তিনি।

ইশরাক লেখেন, ‘এবার সংসদ সদস্য বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নয়, বিএনপির একজন কর্মী হিসেবে মাদকের বিরুদ্ধে শতগুণ বেশি উদ্দীপনা নিয়ে কাজ করব, ইনশাআল্লাহ।’

তিনি আরও জানান, পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি জোরদার করবেন এবং দেশব্যাপী প্রজন্ম দলের সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে বিভিন্ন জেলা সফর করতে পারবেন। পোস্টের শেষে তিনি লেখেন, ‘মন্ত্রী নয়, মাদক নির্মূল! মাদক নির্মূল, মাদক নির্মূল!’

যেভাবে পদত্যাগের নির্দেশ

সরকারসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের বরাতে জানা যায়, রোববার বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে ইশরাক হোসেনকে ডেকে পাঠান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয় বলে সূত্রগুলো জানায়।

এর আগে শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় আগ্নেয়াস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেন ইশরাক। তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের হাতেও অস্ত্র দেখা যায়। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। বিষয়টি নিয়ে বিএনপি ও সরকারের ভেতরেও অস্বস্তি তৈরি হয়।

শনিবার বিকেলে গেন্ডারিয়া রেলস্টেশনসংলগ্ন দয়াগঞ্জ গুণ্টিঘর রেলগেট এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। ইশরাকের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়ি থেকে নেমে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে তিনি চিৎকার করে বলছেন, ‘এই ধর ধর ধর…।’ এ সময় তার পাশ থেকে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘একেবারে গুলি করে দেব।’

ভিডিওতে আরও দেখা যায়, প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে থাকা দেহরক্ষীরা কয়েকজনকে ধরতে দৌড়াচ্ছেন। তাদের একজন এক তরুণকে লাথি মারেন। এ সময় কয়েকজনকে বলতে শোনা যায়, ‘স্যার, আমি কিছু করিনি। আমি গরিব মানুষ স্যার।’

অন্য একটি ভিডিওতে আটক ব্যক্তিদের পুলিশের হাতে তুলে দিতে দেখা যায়। ঘটনাস্থলে ইশরাকের ব্যক্তিগতভাবে নিয়োগ দেওয়া দুই দেহরক্ষী তোফাজ্জল হোসেন ও লাভলুর পাশাপাশি একজন সরকারি দেহরক্ষীও ছিলেন। ব্যক্তিগত দেহরক্ষীদের কাছেও অস্ত্র দেখা যায়। ভিডিওর কিছু অংশে ইশরাকের হাতে থাকা পিস্তল অস্পষ্ট করা হলেও অন্য অংশে অস্ত্রটি স্পষ্ট দেখা যায়। তবে গুলি করার হুমকি দেওয়া ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

অস্ত্র প্রদর্শন নিয়ে প্রশ্ন

মাদকবিরোধী অভিযানে একজন প্রতিমন্ত্রীর এভাবে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালার ২৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, আত্মরক্ষার জন্য লাইসেন্সপ্রাপ্ত অস্ত্র বহন ও ব্যবহার করা গেলেও অন্যের মনে ভয় বা বিরক্তির সৃষ্টি হতে পারে—এমনভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করা যাবে না।

ঘটনাটি তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। রোববার ডিএমপির গণমাধ্যম কেন্দ্রে এক সংবাদ সম্মেলনে গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান শফিকুল ইসলাম জানান, ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনারকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনা নিয়ে সমালোচনার মধ্যে রোববার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি বিবৃতি দেন ইশরাক। এতে তিনি দাবি করেন, মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচিতে অংশ নিতে সেখানে গিয়েছিলেন। পুলিশ, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও সামাজিক নেতাদের যৌথ সিদ্ধান্তে ওই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

একটি মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/modhumot/public_html/wp-includes/functions.php on line 5581