রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬ যোগাযোগ আমাদের পরিচয়
English
সর্বশেষ খুলনাকে পরিচ্ছন্ন, যানজট ও দখলমুক্ত নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই: নজরুল ইসলাম মঞ্জু ● খুলনার লবণচরায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে যুবক নিহত ● প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে স্থাপিত তোরণ-ব্যানার অপসারণের নির্দেশ খুলনা বিএনপির ● টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে এক ধাপ পিছিয়ে বাংলাদেশ ● যেকোনো হুমকির জবাবে তাৎক্ষণিক পাল্টা আঘাতের নির্দেশ খামেনির
সারাদেশ

ঠাকুরগাঁওয়ে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ইপিজেড প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেলাওয়ার হোসেনের

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন বলেছেন, স্বাধীনতার পর গত ৫৫ বছরে এ আসন থেকে অনেকে সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী নির্বাচিত হলেও সাধারণ মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি। তাঁদের অনেকেই নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করেছেন, কিন্তু জনগণের মৌলিক সমস্যার সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেননি।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সমর্থনে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

দেলাওয়ার হোসেন বলেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষকে গরু-ছাগল বিক্রি করে রংপুর ও দিনাজপুরে যেতে হয়। জেলায় উন্নত সরকারি হাসপাতাল থাকলে চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে মানুষকে সর্বস্বান্ত হতে হতো না। চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুর ঘটনাও কমানো সম্ভব হতো।

তিনি নির্বাচিত হলে ঠাকুরগাঁওয়ে একটি আধুনিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেন। পাশাপাশি রুহিয়া ও ভুল্লী উপজেলায় পৃথক মা ও শিশু হাসপাতাল এবং প্রতিটি ইউনিয়নে কমিউনিটি ক্লিনিক চালুর কথা জানান।

যুব কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে দাঁড়িপাল্লার এই প্রার্থী বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের শিক্ষিত বেকারদের কর্মসংস্থানে অতীতের সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীরা কার্যকর উদ্যোগ নেননি। সামান্য সহায়তা ও পরিকল্পনা পেলে অনেক তরুণ স্বাবলম্বী হতে পারেন। তিনি নির্বাচিত হলে জেলায় রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) প্রতিষ্ঠা, বন্ধ বিমানবন্দর চালু এবং ঠাকুরগাঁওকে অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এ ছাড়া ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালু এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে সব পদে নিয়োগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। সরকারি নিয়োগে দলীয়করণ করা হবে না বলেও জানান।

মাদক নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে দেলাওয়ার হোসেন বিএনপি প্রার্থীর সমালোচনা করে বলেন, একদিনের মধ্যে মাদক নির্মূলের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তাঁর দাবি অনুযায়ী, বিএনপি সরকার গঠনের সাত মাস পরও ঠাকুরগাঁও থেকে মাদক নির্মূল হয়নি। মাদক কারবারিদের রাজনৈতিক প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণের কারণে পরিস্থিতির পরিবর্তন হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি নির্বাচিত হলে ব্যবসায়ীদের চাঁদাবাজি থেকে মুক্ত রাখা এবং ঠাকুরগাঁওকে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিমুক্ত শান্তির নগরী হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন।

ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা ও অধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য করা এবং মামলা থেকে নাম বাদ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। দাঁড়িপাল্লা প্রতীক বিজয়ী হলে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্ব নেবেন বলেও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

সরকারি বরাদ্দ ও ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে দেলাওয়ার হোসেন বলেন, রাষ্ট্রের অর্থের অপচয়, দুর্নীতি ও আত্মসাতের সুযোগ দেওয়া হবে না। কোনো বরাদ্দ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে জনগণকে জানানো হবে। বরাদ্দের অর্থ কোথায় এবং কীভাবে ব্যয় করা হয়েছে, তার হিসাবও প্রকাশ করা হবে।

নির্বাচনে ভোটের ফলাফল কারচুপির চেষ্টা করা হলে নির্বাচনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সতর্ক করে তিনি বলেন, কোনো প্রার্থীকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া বা ফলাফল কারচুপির চেষ্টা গ্রহণযোগ্য হবে না। আগামী ২৯ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও-১ আসনের ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগের পাশাপাশি ভোটকেন্দ্র পাহারা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। জনগণের ভোটের সঠিক হিসাব নিশ্চিত না করে কেন্দ্র না ছাড়ার কথাও বলেন এই প্রার্থী।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

একটি মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/modhumot/public_html/wp-includes/functions.php on line 5581