রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬ যোগাযোগ আমাদের পরিচয়
English
সর্বশেষ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে এক ধাপ পিছিয়ে বাংলাদেশ ● যেকোনো হুমকির জবাবে তাৎক্ষণিক পাল্টা আঘাতের নির্দেশ খামেনির ● লংমার্চের নামে ১১ দলীয় ঐক্যজোট গাড়িমার্চ করছে: সংস্কৃতিমন্ত্রী ● বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন অধরাই থেকে গেলো, মুক্তিপণের জন্য হত্যা রাকিবকে ● সাতক্ষীরার তালায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১, আহত অন্তত ২০
খুলনা বিভাগ

বাগেরহাটে কারাভোগের পর মুক্তিপ্রাপ্তদের পুনর্বাসনে সেলাই মেশিন ও ভ্যানগাড়ি বিতরণ

বাগেরহাট অফিস:

দীর্ঘদিন কারাভোগ শেষে সমাজে ফিরে আসা ব্যক্তিদের স্বাবলম্বী করে তুলতে পুনর্বাসন উদ্যোগ নিয়েছে বাগেরহাট জেলা প্রশাসন ও জেলা সংশোধন ও পুনর্বাসন সমিতি।

এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে যাবজ্জীবন সাজা ভোগ করে মুক্তি পাওয়া চারজনের হাতে সেলাই মেশিন, ব্যাটারিচালিত ভ্যানগাড়ি এবং শুকনো খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়েছে।

রোববার (২ আগস্ট) সকাল ১১টায় বাগেরহাট জেলা কারাগার প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এসব সহায়তা বিতরণ করেন জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন। জেলা সংশোধন ও পুনর্বাসন সমিতির অর্থায়নে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়।

জেলা প্রবেশন অফিসার শেখ শহিদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সন্তোষ কুমার নাথ, বাগেরহাট জেলা কারাগারের জেলার মোহাম্মদ আবু সাদাত, বাগেরহাট প্রেস ক্লাবের সভাপতি আবু সাঈদ শুনু, সাধারণ সম্পাদক হেদায়েত হোসেন লিটনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সহায়তা পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন কচুয়া উপজেলার আকলিমা বেগম, মোরেলগঞ্জ উপজেলার লাইলী বেগম, চিতলমারী উপজেলার আয়েশা আক্তার এবং মংলা উপজেলার জালাল শেখ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সাজাভোগ শেষে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের পুনর্বাসন নিশ্চিত করা গেলে তারা নতুন করে অপরাধে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যায়। কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হলে তারা আত্মসম্মান বজায় রেখে সমাজের মূলধারায় ফিরে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন। তাই অপরাধ দমনে শাস্তির পাশাপাশি মানবিক পুনর্বাসনও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

২৩ বছর কারাভোগ শেষে মুক্তি পাওয়া জালাল শেখ বলেন, “জেলা কারাগারের পক্ষ থেকে একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যানগাড়ি পেয়েছি। এটি চালিয়ে সৎভাবে জীবিকা নির্বাহ করতে পারব। এই সহায়তা আমার নতুন জীবন শুরু করার সাহস জুগিয়েছে।”

অন্যদিকে ২৬ বছর কারাভোগ করা আকলিমা বেগম বলেন, “একই মামলায় আমার স্বামীও কারাগারে ছিলেন। ২০০৬ সালে তিনি কারাগারেই মারা যান। কারাগারে থাকাকালে দর্জির কাজ শিখেছি। মুক্তির পর একটি সেলাই মেশিন পেয়েছি। এখন নিজে কাজ করে সম্মানের সঙ্গে জীবন চালানোর সুযোগ পাব।”

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন বলেন, “পাপকে ঘৃণা করতে হবে, পাপীকে নয়। সাজাভোগ শেষে যারা মুক্তি পেয়েছেন, তাদের সমাজে মর্যাদার সঙ্গে ফিরিয়ে আনতে পুনর্বাসন অত্যন্ত জরুরি। আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে সেলাই মেশিন, ব্যাটারিচালিত ভ্যানগাড়ি ও খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হয়েছে। সমাজের সবাই ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে তাদের গ্রহণ করলে তারা নতুনভাবে জীবন গড়ে তুলতে পারবেন।”

তিনি আরও বলেন, অপরাধ প্রতিরোধে কেবল শাস্তিই যথেষ্ট নয়; সামাজিক সচেতনতা, মানবিক সহযোগিতা এবং পুনর্বাসনমূলক কার্যক্রমও সমানভাবে প্রয়োজন। ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

একটি মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/modhumot/public_html/wp-includes/functions.php on line 5581