নিজস্ব প্রতিবেদক:
খুলনার তেরখাদা উপজেলায় আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ঘিরে আগাম নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। দলীয় প্রতীক না থাকলেও ছয় ইউনিয়নেই চেয়ারম্যান পদে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক আগ্রহ।
এরই মধ্যে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশায় উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির কাছে বুধবার ৩০ (সেপ্টেম্বর) উপজেলা বিএনপি অস্থায়ী দলীয় কার্যালয় ৪৫ জন সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) ও মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন।
উপজেলা বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, ছয় ইউনিয়নের মধ্যে তেরখাদা সদর ইউনিয়নেই চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। এ ইউনিয়ন থেকে ১১ জন ফরম জমা দিয়েছেন। এছাড়া বারাসাত ইউনিয়নে ৯ জন, আজগড়া ইউনিয়নে ৭ জন, ছাগলাদহ ইউনিয়নে ৬ জন, সাচিয়াদাহ ইউনিয়নে ৬ জন এবং মধুপুর ইউনিয়নে ৬ জন প্রার্থী দলীয় সমর্থনের প্রত্যাশায় আবেদন করেছেন।
এ নিয়ে উপজেলার হাট-বাজার, চায়ের দোকান, রাজনৈতিক কার্যালয় ও স্থানীয় বিভিন্ন আড্ডায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে চলছে আলোচনা। কে কতটা জনপ্রিয়, কার সাংগঠনিক অবস্থান কেমন, দীর্ঘদিন দলের সঙ্গে কার সম্পৃক্ততা রয়েছে—এসব বিষয় নিয়েও চলছে নানা হিসাব-নিকাশ।
দলীয় প্রতীক না থাকায় এবার নির্বাচন হবে ভিন্ন বাস্তবতায়। তবে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে দলীয় সমর্থন পাওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের অনেকে মনে করছেন, দল সাংগঠনিকভাবে যাকে সমর্থন দেবে, তার পক্ষে নেতাকর্মীদের একত্রিত হয়ে কাজ করার সুযোগ তৈরি হবে।
মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নিজেদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, দলের প্রতি আনুগত্য, ত্যাগ এবং এলাকায় ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতাকে সামনে আনছেন। অনেকেই তৃণমূল নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন। বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতেও সক্রিয় উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন তারা।
স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ছয় ইউনিয়নে একাধিক প্রার্থী থাকায় দলীয় সমর্থন প্রত্যাশীদের মধ্যে প্রতিযোগিতাও বাড়ছে। তবে চূড়ান্তভাবে কাকে সমর্থন দেওয়া হবে, সেটি নির্ভর করবে দলীয় যাচাই-বাছাই ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের রাজনৈতিক বাস্তবতার ওপর।
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক চৌধুরী কাওসার আলী বলেন, ‘দলীয় প্রতীক না থাকলেও প্রার্থীদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই করা হবে। এ জন্য বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা, দলের প্রতি সক্রিয় ভূমিকা, গ্রহণযোগ্যতা এবং অতীতে দলের জন্য তাদের ত্যাগের বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সবকিছু যাচাই-বাছাই শেষে দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
এদিকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতার পাশাপাশি ইউনিয়নগুলোতে ভোটারদের মধ্যেও নির্বাচনী আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে মনোনয়ন ফরম জমা দেওয়া ৪৫ জনের সবাই শেষ পর্যন্ত প্রার্থী থাকবেন কি না, কিংবা দলীয় সমর্থনের প্রক্রিয়ায় কারা এগিয়ে থাকবেন তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
উপজেলার ছয় ইউনিয়ন—আজগড়া, বারাসাত, ছাগলাদহ, সাচিয়াদাহ, তেরখাদা সদর ও মধুপুর—জুড়েই এখন সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা চলছে। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে, প্রার্থীদের মাঠপর্যায়ের তৎপরতা ও গণসংযোগ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

