খুলনা প্রতিনিধি:
বিশ্ব দৃষ্টি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে খুলনায় বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) খুলনা বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের উদ্যোগে এবং সাইটসেভার্স, অরবিস ইন্টারন্যাশনাল ও দি ফ্রেন্ড হলোজ ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় এসব কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
সকালে খুলনা-যশোর মহাসড়কে বর্ণাঢ্য র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। পরে সকাল ১০টায় খুলনা বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. মো. রফিকুল হক বাবলু। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ মো. মোশাররফ হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মো. শওকত আলী।
সভায় বক্তব্য দেন বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের ট্রেজারার হারুন অর রশিদ, সদস্য ড. মোস্তফা কামাল, এস এ রহমান বাবুল, প্রফেসর ড. মো. ফারুক হোসেন, হাসপাতালের পরিচালক ড. শীতেশ চন্দ্র ব্যানার্জি, সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মিজানুর রহমান নাসিমসহ সংশ্লিষ্টরা।
এ ছাড়া সহযোগী সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে সাইটসেভার্সের প্রতিনিধি বনফুল চুমকি, মোহাম্মদ আমিনুর রহমান ও মো. কামরুল ইসলাম বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে হাসপাতালের চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, দৃষ্টিশক্তি রক্ষা ও অন্ধত্ব প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সময়মতো চক্ষু চিকিৎসা গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চোখের বিভিন্ন রোগ ও দৃষ্টিজনিত সমস্যা প্রতিরোধে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, দাতা সংস্থা এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
বক্তারা আরও বলেন, যথাসময়ে চক্ষু পরীক্ষা ও চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রেই দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকি কমানো সম্ভব। এ বিষয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
উল্লেখ্য, ১৯৭৬ সালে ২৫ শয্যা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত খুলনা বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতাল দীর্ঘ ৫০ বছরের পথপরিক্রমায় বর্তমানে ৯২ শয্যার একটি বিশেষায়িত চক্ষু হাসপাতালে পরিণত হয়েছে। হাসপাতালটিতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬০০ রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর এখানে প্রায় ২০ হাজার চক্ষু অপারেশন সম্পন্ন হয়। চলতি সময়ে অপারেশনের সংখ্যা ২৫ হাজারে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

