রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬ যোগাযোগ আমাদের পরিচয়
English
সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে স্থাপিত তোরণ-ব্যানার অপসারণের নির্দেশ খুলনা বিএনপির ● টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে এক ধাপ পিছিয়ে বাংলাদেশ ● যেকোনো হুমকির জবাবে তাৎক্ষণিক পাল্টা আঘাতের নির্দেশ খামেনির ● লংমার্চের নামে ১১ দলীয় ঐক্যজোট গাড়িমার্চ করছে: সংস্কৃতিমন্ত্রী ● বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন অধরাই থেকে গেলো, মুক্তিপণের জন্য হত্যা রাকিবকে
খুলনা বিভাগ

খুলনায় ঘোড়ার মাংস গরু বলে বিক্রির অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার

এ আই দিয়ে তৈরি ছবি

স্টাফ রিপোর্টার

খুলনার ডুমুরিয়ায় খামারের আড়ালে ঘোড়া জবাই করে মাংস বিক্রির অভিযোগে আনিসুর রহমান ওরফে পলাশ মাহমুদ (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে র‍্যাব-৬। এ সময় তিনটি জবাই করা ঘোড়ার প্রায় চার মণ মাংস উদ্ধার করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাঁকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।

শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) গভীর রাতে ডুমুরিয়া উপজেলার মাগুরাঘোনা ইউনিয়নের কাঞ্চনপুর গ্রামের ‘সাউথ বেঙ্গল ক্যাটল ফার্মে’ অভিযান চালানো হয়। শনিবার দুপুরে ঘোড়ার মাংস বিক্রির সময় পলাশকে হাতেনাতে আটক করা হয় বলে জানিয়েছে র‍্যাব-৬।

র‍্যাব-৬-এর কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জায়েন উদ্দিন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই খামারের ওপর নজরদারি করা হচ্ছিল। অভিযানের সময় তিনটি ঘোড়া জবাই করে মাংস প্যাকেটজাত করার প্রস্তুতি চলছিল। এ সময় প্রায় চার মণ মাংসসহ পলাশকে আটক করা হয়। তবে তাঁর সঙ্গে থাকা চার থেকে পাঁচজন সহযোগী পালিয়ে যান। ঘটনাস্থল থেকে একটি জীবিত ঘোড়াও উদ্ধার করা হয়েছে।

পরে ডুমুরিয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সোহেল রানা প্রাণীকল্যাণ আইন, ২০১৯-এর ১৬ ধারা অনুযায়ী পলাশকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। জব্দ করা মাংস মাটিতে পুঁতে বিনষ্ট করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, জবাই করা ঘোড়ার মাংস গরু বা খাসির মাংস হিসেবে বিক্রি করা হতো। এমনকি এসব মাংস ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার নামিদামি হোটেলেও সরবরাহ করা হতো বলে স্থানীয়দের দাবি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, গত ১ জুলাই খামারটি গড়ে তোলা হয়। চারপাশে টিনের বেড়া দিয়ে আড়াল করা জায়গাটিতে ঘোড়া রাখা হতো। পরে রাতের আঁধারে সেগুলো জবাই করে ১০ কেজির প্যাকেটে মাংস ভরে গরু বা খাসির মাংসের নামে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।

ডুমুরিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আশরাফুল কবির জানান, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে এবং বেআইনিভাবে জবাই করা এসব মাংস জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারত। জব্দ করা মাংস মাটিতে পুঁতে বিনষ্ট করা হয়েছে। উদ্ধার করা জীবিত ঘোড়াটি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্যের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, এ ঘটনার পেছনে জড়িত পুরো চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, এত বড় একটি প্রতারণার ঘটনায় শুধু একজনকে সাজা দিয়ে মূল হোতাদের আড়াল করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

একটি মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/modhumot/public_html/wp-includes/functions.php on line 5581