রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬ যোগাযোগ আমাদের পরিচয়
English
সর্বশেষ খুলনাকে পরিচ্ছন্ন, যানজট ও দখলমুক্ত নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই: নজরুল ইসলাম মঞ্জু ● খুলনার লবণচরায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে যুবক নিহত ● প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে স্থাপিত তোরণ-ব্যানার অপসারণের নির্দেশ খুলনা বিএনপির ● টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে এক ধাপ পিছিয়ে বাংলাদেশ ● যেকোনো হুমকির জবাবে তাৎক্ষণিক পাল্টা আঘাতের নির্দেশ খামেনির
জাতীয়

তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ন্যাশনাল ডেস্ক:

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ও এর গঠনপ্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন মতামত ও প্রস্তাব পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে আরও উন্মুক্ত আলোচনা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, জনগণের জন্য উপযুক্ত যে প্রক্রিয়া জাতীয় সংসদ বিবেচনা করবে, সেটিই গ্রহণ করা হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার কী প্রক্রিয়ায় এবং কাদের নিয়ে গঠন করা হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির চতুর্থ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বৈঠকে ইলেকট্রনিক মিডিয়া, টেলিভিশন চ্যানেল, অনলাইন পোর্টাল, বার্তা সংস্থা, বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের কাছ থেকে মতামত নেওয়া হয়েছে। আলোচনায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও বিকেন্দ্রীকরণ, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ, সংবিধানের প্রস্তাবনা এবং রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতামত এসেছে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদে এ বিষয়ে কিছু প্রস্তাব ও ভিন্নমত রয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের ক্ষেত্রে কোন কোন ধাপ অনুসরণ করা হবে, তার একাধিক বিকল্প প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলসহ সংশ্লিষ্ট সবার কাছ থেকে প্রস্তাব আহ্বান করা হয়েছে।

সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগকে অংশগ্রহণমূলক করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে কমিটির সভাপতি বলেন, সব রাজনৈতিক দলকে আলোচনায় আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিরোধী দলের কোনো বক্তব্য বা প্রস্তাব থাকলে আলোচনার মাধ্যমে তা বিবেচনা করা যেতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের সর্বোচ্চ ১০ বছর নির্ধারণের প্রস্তাব নিয়েও বৈঠকে মতামত এসেছে বলে জানান তিনি। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কেউ কেউ মনে করেন, কোনো ব্যক্তির প্রধানমন্ত্রীর পদে থাকার সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া গণতান্ত্রিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। জনগণ কোনো নেতাকে পুনরায় দায়িত্বে দেখতে চাইলে সেই সুযোগ থাকা উচিত—এমন মতামতও এসেছে।

তবে ব্যক্তিকেন্দ্রিক বা কর্তৃত্ববাদী শাসন প্রতিষ্ঠার সুযোগ যেন তৈরি না হয়, সে বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের সর্বোচ্চ ১০ বছরের সীমা নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। বিএনপি জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়নের সময় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের সর্বোচ্চ ১০ বছরের যে প্রস্তাব দিয়েছিল, দলটি এখনো সেই অবস্থান থেকে সরে আসেনি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ যেভাবে প্রণীত ও স্বাক্ষরিত হয়েছে, কমিটি সেটি বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ। তবে কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে সনদের কোনো বিষয়ে ভিন্ন প্রস্তাব থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে বিবেচনা করা যেতে পারে।

দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ একক রাষ্ট্র হওয়ায় দেশের জন্য দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ প্রয়োজন আছে কি না, বৈঠকে সে প্রশ্ন উঠেছে। তবে জুলাই জাতীয় সনদে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠনের বিষয়ে ঐকমত্য হওয়ায় কমিটি সেই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই এগোতে চায়। সংসদে এ বিষয়ে নতুন কোনো প্রস্তাব এলে তা বিবেচনার সুযোগ থাকবে।

কমিটির সভাপতি জানান, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নেওয়ার পর সংবিধান বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করা হবে। পরে প্রতিবেদনটি জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে। এর ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনের বিল সংসদে উত্থাপন করা হবে। বিল নিয়ে সংসদে আলোচনার পাশাপাশি সংসদের বাইরেও মতামত নেওয়ার সুযোগ থাকবে।

তিনি বলেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সাবেক সদস্য এবং জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়নে ভূমিকা রাখা ব্যক্তিদের সঙ্গেও কমিটি আলোচনা করবে। এ বিষয়ে আগেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়নের ভিত্তি ছিল ছয়টি সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন। এসব কমিশনের সঙ্গে প্রায় সব রাজনৈতিক দলের আলোচনা হয়েছে। পরে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনগুলোর ভিত্তিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন কাজ করেছে।

অন্য সংস্কার কমিশনগুলোর প্রতিবেদন বর্তমানে সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ার বাধ্যতামূলক অংশ নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার প্রয়োজন মনে করলে ভবিষ্যতে কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে নতুন সংস্কার কমিশন গঠন করে সুপারিশ নিতে পারে। গণমাধ্যম সংস্কার নিয়ে আলাদা কমিশন গঠন করা হলে তার বাস্তবায়নযোগ্য সুপারিশও পরবর্তীতে বিবেচনা করা সম্ভব।

তিনি জানান, সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি পর্যায়ক্রমে সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, বিচারক ও সাবেক বিচারক, শিক্ষাবিদ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সামাজিক শক্তি, সংগঠন ও ব্যক্তিত্ব এবং গত ১৭ বছরে বিভিন্নভাবে নিপীড়নের শিকার ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করবে। জুলাইয়ের শহীদদের পরিবারের সঙ্গেও মতবিনিময় করা হবে।

বৈঠকে কমিটির সদস্য ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক, ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন এবং কমিটির সদস্য মো. মাহমুদুল হক রুবেল উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত

একটি মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/modhumot/public_html/wp-includes/functions.php on line 5581