ন্যাশনাল ডেস্ক:
রাজনীতি শুধু ক্ষমতা অর্জনের জন্য নয়, বরং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। তিনি বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার মাধ্যমেই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা সম্ভব।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনের অফিসকক্ষে জাতীয় শিক্ষক দিবস উপলক্ষে দ্য মিলেনিয়াম ইউনিভার্সিটির শিক্ষকদের সঙ্গে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, জনগণের প্রতিনিধি হতে পারা অত্যন্ত সৌভাগ্যের বিষয়। প্রায় ৩৫ বছর ধরে তিনি একই আদর্শে রাজনীতি করার চেষ্টা করছেন। নির্বাচনে ব্যক্তিগত অর্থ ব্যয় কিংবা আপ্যায়নের মাধ্যমে ভোট চাওয়ার পরিবর্তে মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা অর্জনকেই তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন।
তিনি বলেন, জনপ্রতিনিধিদের যেমন জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হয়, তেমনি যোগ্য ও সঠিক প্রতিনিধি নির্বাচনের দায়িত্বও জনগণের। নির্বাচনে জয়ী হতে বিপুল অর্থ ব্যয়ের যে প্রবণতা রয়েছে, তা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। জনগণের সেবা করার আদর্শ ছাড়া রাজনীতিকে সঠিক পথে পরিচালিত করা সম্ভব নয়।
স্থানীয় সরকারব্যবস্থাকে গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি উল্লেখ করে ড. আবদুল মঈন খান বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা না গেলে জাতীয় পর্যায়েও গণতন্ত্র কার্যকর করা কঠিন হবে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার, জনগণের সেবা নিশ্চিত করা এবং পাঁচটি স্তরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন তাঁর সামনে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।
মানুষ যেন নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন, তা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় ভিত্তিতে আয়োজনের পক্ষে মত দিয়ে মন্ত্রী বলেন, নির্দলীয় নির্বাচন স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় বিভাজন ও পারস্পরিক বিদ্বেষ কমাতে সহায়ক হতে পারে। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও দেশের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে সবাইকে দলীয় বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করতে হবে।
সমাজ গঠনে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর (এনজিও) ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, দারিদ্র্য বিমোচন, মানুষের জীবনমান উন্নয়নসহ বিভিন্ন সামাজিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের এনজিওগুলোর অবদান গুরুত্বপূর্ণ। সরকার ও এনজিওগুলোর মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা। এ জন্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও এনজিওগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে হবে।
আলোচনা সভায় দ্য মিলেনিয়াম ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজ ও খান ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট রোখসানা খন্দকার বলেন, এনজিও পরিচালনায় দাতাদের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল না হয়ে নিজস্ব সক্ষমতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা বজায় রাখা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, অর্থায়ন কমে যাওয়ার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্থানীয় সম্পদের ব্যবহার এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা বাড়াতে হবে। সরকারি খাসজমি ও পুকুরসহ স্থানীয় সম্পদ কাজে লাগিয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা সম্ভব। একই সঙ্গে সমাজ গঠনে এনজিওগুলোর ভূমিকা আরও জোরদার করতে হবে।

