চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) উপাচার্য পরিবর্তনের প্রতিবাদে সর্বাত্মক শাটডাউন ও গণ-অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন শিক্ষার্থীরা। অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবিতে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) থেকে এ কর্মসূচি পালন করছেন তারা।
মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কর্মসূচির ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা। তাদের ঘোষণা অনুযায়ী, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস, পরীক্ষা, ল্যাব ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। তবে জরুরি সেবা হিসেবে নিরাপত্তা শাখা ও মেডিকেল সেবা শাটডাউনের আওতামুক্ত থাকবে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, গত ২১ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত ২৭ জুলাই অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় তাকে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নিয়োগ পরিবর্তনের প্রজ্ঞাপনে এর কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি বলে দাবি শিক্ষার্থীদের।
এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ২১ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন একাডেমিক ভবন, আবাসিক হল ও শিক্ষক আবাসিক এলাকা প্রদক্ষিণ করে। পরে শিক্ষার্থীরা উপাচার্য ভবনের সামনে গিয়ে সেখানে তালা ঝুলিয়ে দেন।
শিক্ষার্থীদের দাবি, দায়িত্ব গ্রহণের পর স্বল্প সময়ের মধ্যেই অধ্যাপক সায়েম শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, একাডেমিক ও প্রশাসনিক বিষয়ে দ্রুত উদ্যোগ এবং শিক্ষার্থীবান্ধব আচরণের মাধ্যমে তাদের আস্থা অর্জন করেন। এ অবস্থায় কোনো দৃশ্যমান ব্যাখ্যা ছাড়াই তাকে উপাচার্যের পদ থেকে পরিবর্তনের সিদ্ধান্তকে অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করছেন তারা।
ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে উপাচার্য ভবনের সামনে সব ব্যাচের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে গণ-অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু হয়।
শিক্ষার্থীরা সদ্য জারি করা নিয়োগের প্রজ্ঞাপন বাতিল করে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে পুনরায় চুয়েটের উপাচার্য পদে নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারির দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সর্বাত্মক শাটডাউন, গণ-অবস্থান ও প্রতিবাদ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

