নওগাঁ প্রতিনিধি:
নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় তথ্য সংগ্রহের পরীক্ষামূলক জরিপ শুরু হচ্ছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) থেকে উপজেলার রাণীনগর, একডালা ও মিরাট ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
সোমবার বিকেলে উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আব্দুল হালিম। উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় এ ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে।
আব্দুল হালিম জানান, জরিপ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গত ১০ ও ১১ অক্টোবর তিনজন সুপারভাইজার ও ১২ জন তথ্য সংগ্রহকারীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী মাঠপর্যায়ে প্রতিটি ইউনিয়নে একজন সুপারভাইজার ও চারজন তথ্য সংগ্রহকারী দায়িত্ব পালন করবেন।
তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের উপকারভোগী নির্বাচনে পরিবারের নিজস্ব দাবি বা মৌখিক বক্তব্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। এ ক্ষেত্রে প্রক্সি মিনস টেস্ট (পিএমটি) পদ্ধতিতে পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থা, জীবনযাত্রার মান ও নির্ধারিত সূচক মূল্যায়ন করে যোগ্যতা যাচাই করা হবে। এতে উপকারভোগী নির্বাচনের প্রক্রিয়া আরও বস্তুনিষ্ঠ, নিরপেক্ষ ও তথ্যনির্ভর হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সমাজসেবা কর্মকর্তা জানান, জরিপে তথ্য সংগ্রহের জন্য জিপিএস-সক্ষম ট্যাবলেট ব্যবহার করা হবে। তথ্য সংগ্রহ ও দাখিলের পর সুপারভাইজাররা সেগুলোর নির্ভুলতা ও সামঞ্জস্য যাচাই করবেন। পরে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কমিটি তথ্যগুলো আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবে।
তিনি বলেন, পুরো কর্মসূচির বিশ্বাসযোগ্যতা নির্ভর করছে সংগৃহীত তথ্যের যথার্থতার ওপর। এ জন্য তথ্য সংগ্রহকারীদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে প্রকৃত তথ্য লিপিবদ্ধ করতে হবে। পাশাপাশি সুপারভাইজার ও সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলোকেও যথাযথভাবে যাচাইয়ের দায়িত্ব পালন করতে হবে।
জরিপে অংশগ্রহণকারী পরিবারের সদস্যদের প্রকৃত অবস্থা অনুযায়ী সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আব্দুল হালিম বলেন, তথ্য সংগ্রহকারীদের পরিচয় নিশ্চিত করে তাঁদের প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে। কোনো তথ্য গোপন করা বা ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
তিনি আরও স্পষ্ট করেন, জরিপে তথ্য দিলেই কোনো ব্যক্তি বা পরিবার স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার যোগ্য হবেন না। সরকারি নীতিমালা, পিএমটি পদ্ধতিতে মূল্যায়ন এবং পরবর্তী যাচাই-বাছাইয়ের ভিত্তিতেই উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে।
এ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ বা তথ্য প্রদানের জন্য কোনো অর্থ দিতে হবে না বলেও জানান তিনি। ফ্যামিলি কার্ড পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে কেউ অর্থ দাবি করলে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সবাইকে সতর্ক করেন তিনি।
প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাকিবুল হাসান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শাহিনা আক্তার, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোসারব হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মেজবাউল হক লিটন, উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মোজাক্কির হোসেন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মতিউর রহমান উজ্জলসহ জরিপে দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজাররা।

